বকেয়া প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা না মিটিয়ে রিলায়েন্স কমিউনিকেশনের (আর কম) কর্ণধার অনিল আম্বানী ও তাঁর দুই সহযোগী যাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারেন তার জন্য গত মাসে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সুইডিশ বহুজাতিক সংস্থা এরিকসন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট অনিল আম্বানীর সংস্থাকে নির্দেশ দিল, আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এরিকসনকে তাদের বকেয়া পাওনা ৫৫০ কোটি টাকা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য।
শুধু তাই নয়, সুপ্রিম কোর্ট এদিন বলেছে, যেহেতু ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনিল আম্বানীর সংস্থার এই টাকা মেটানোর কথা ছিল, কিন্তু তা না হওয়ায় মাঝের এই দেরি হওয়া সময়ের জন্য প্রাপ্য টাকার উপর ১২ শতাংশ হারে সুদও এবার মেটাতে হবে রিলায়েন্সকে। কোর্ট জানিয়েছে, বকেয়া টাকা মেটানোর জন্য এরপর আর অতিরিক্ত কোনও সময় দেওয়া হবে না।
রিলায়েন্সের তরফে আদালতে বলা হয়েছিল, তারা তাদের অধীনে থাকা স্পেকট্রাম বিক্রি করে এরিকসনের পাওনা টাকা মেটাতে চায়। কিন্তু বিষয়টিতে এখনও টেলিকম বিভাগের সম্মতি না পাওয়ায় তারা স্পেক্ট্রাম বিক্রি করতে পারছে না। অনুমতি পাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে তারা স্পেকট্রাম বিক্রি করে এরিকসনের প্রাপ্য টাকা মিটিয়ে দেবে।
কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে সুইডিশ সংস্থা এরিকসন আবেদন করে, নতুন করে রিলায়েন্স কমিউনিকেশন যেন তাদের কোনও সম্পত্তি বিক্রি করতে না পারে। কারণ, ইতিমধ্যেই নিজেদের সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা পেয়েছে রিলায়েন্স কমিউনিকেশন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে সাত বছরের জন্য চুক্তি হয় এরিকসন ও অনিল আম্বানীর রিলায়েন্স কমিউনিকেশনের মধ্যে। চুক্তিতে বলা হয়েছিল, ভারতে আর কমের টেলিকম পরিষেবা সামলাবে এরিকসন। কিন্তু আর কমের তরফে চুক্তির শর্তের খেলাপ হওয়ার অভিযোগ করে ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইবুনালে মামলা করে এরিকসন। পাওনা প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা আর কমের কাছে দাবি করে এরিকসন। পরে ৫৫০ কোটি টাকার সমঝোতা হয় দুই পক্ষের মধ্যে। কিন্তু সেই টাকা মেটাতেও ইতিমধ্যে দুবার সময়সীমা ফেল করেছে আর কম। সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার দেনা রয়েছে আর কমের উপর।
সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা অনিল আম্বানীর, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এরিকসনকে সুদসহ ৫৫০ কোটি টাকা মেটাতে নির্দেশ
বকেয়া টাকা রিলায়েন্সকে মেটাতে হবে সুদ সমেত, নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

Track Latest News Live on TheBengalStory.com and get news updates from West Bengal and around the world.
Categories
Editor's choice