চিন্তার কারণ নেই। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃণমূল তৃতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরছে। শুক্রবার প্রার্থীদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে ঘোষণা মমতা ব্যানার্জির। পাশাপাশি প্রার্থী ও এজেন্টদের দিলেন ভোকাল টনিক!
সেই সঙ্গে গণনা কেন্দ্রে প্রার্থী এবং নির্বাচনী এজেন্টদের কী কী করণীয় তা নিয়ে নির্দেশ দেন। সূত্রের খবর, তৃণমূল নেত্রী প্রার্থী এবং এজেন্টদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গণনা কেন্দ্রের ‘মাটি কামড়ে’ পড়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।পরিস্থিতি যাই হোক কোনমতেই গণনা কেন্দ্র ছেড়ে যাওয়া যাবে না। ভার্চুয়াল বৈঠক থেকে এদিন নেত্রী যে নির্দেশ গুলি দেন,
১) মমতার আশঙ্কা মিডিয়াকে ম্যানেজ করে ফেলেছে বিজেপি। তাই গণনার শুরুতে দেখাবে বিজেপি এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মিডিয়ার রিপোর্টে হতোদ্যম হয়ে গিয়ে কাউন্টিং সেন্টার ছাড়া চলবে না।
আরও পড়ুন: তৃণমূলে রাজীব ব্যানার্জির ভবিষৎ কী? অভিষেক ব্যানার্জির সঙ্গে বৈঠক শেষে উঠছে প্রশ্ন
২) বিজেপি অনেক রকম ছলাকলা করতে পারে, ওদের পাতা ফাঁদে পা দিলে চলবে না। বিভ্রান্তিমূলক প্রচার এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেন মমতা।
৩) প্রার্থীদের খাতা পেন সঙ্গে নিয়ে সকালেই গণনা কেন্দ্রে পৌঁছে যেতে হবে। দলনেত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ, গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চেয়ার ছেড়ে ওঠা যাবে না।
৪) মমতার আশঙ্কা তৃণমূলের পাল্লা ভারি এমন আসনের গণনায় বিজেপি গণ্ডগোল করার চেষ্টা করবে। কাউন্টিং এজেন্টদের সদা সতর্ক থাকতে হবে।
আরও পড়ুন: ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিংহ’র মুখ্য উপদেষ্টা পদে ইস্তফা, এবার কোন পথে পিকে?
৫) কাউন্টিং সেন্টারে কোনরকম গোলমাল দেখলে যেন তক্ষুনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানাতে হবে। গণনা কেন্দ্রে এজেন্টদের জন্য দুটি হেল্পলাইন নাম্বার দেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের জন্য এদিন মমতা বিশেষভাবে সজাগ থাকার বার্তা দেন। বলেন,
৬) জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারের কিছু আসনে গণনার প্রথম পর্যায়ে পিছিয়ে থাকতে পারে তৃণমূল। তবে তা নিয়ে যেন এজেন্টরা হতাশ হয়ে গণনা কেন্দ্র না ছাড়েন। তৃণমূল নেত্রীর দাবি উত্তরবঙ্গে অনেকগুলো আসন পাবে তৃণমূল।
৭) বিহারে ভোট গণনার সময় পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল। বাংলায় যাতে তা না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
৮) মমতা ব্যানার্জির নির্দেশ, প্রার্থীদের ১৭ নম্বর ফর্মটি খুঁটিয়ে দেখে নিতে হবে। তারপর গণনা শুরুর সবুজ সংকেত দিতে হবে।
৯) তৃণমূল নেত্রী বলেন প্রার্থীরা যেন কোনও রকম প্রলোভনে পা না দেন। গণনা চলাকালীন প্রার্থীরা যেন বিজেপি বা অন্য বিরোধী দলের কারোর দেওয়া জল বা খাওয়ার না খান। একসঙ্গে ধূমপান করা থেকেও বিরত থাকতে বলেছেন মমতা ব্যানার্জি।
১০) রবিবারই লড়াইয়ের শেষ দিন। তাই একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গণনা কেন্দ্র আগলে বসে থাকতে হবে। শেষ পর্যন্ত সতর্ক দৃষ্টি রাখলে তৃণমূলের বিশাল জয় ঠেকায় সাধ্য নেই কারও, বলেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি।
দলনেত্রীর পাশাপাশি অভিষেক ব্যানার্জিও উপস্থিত ছিলেন ভার্চুয়াল বৈঠকে। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের মত জঙ্গলমহলের আসনগুলোর গণনার ক্ষেত্রেও যেন বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। সূত্রের খবর, অভিষেক ব্যানার্জি প্রার্থীদের বলেন, সবকটি সমীক্ষাতে দেখা যাচ্ছে তৃণমূল এগিয়ে। সুতরাং হতাশার কোনও জায়গা নেই। দুই তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে তাঁরা সরকার তৈরি করছেন।


