Gold ₹144,950/10g
Silver ₹242.57/g
Petrol ₹113.51/L
Diesel ₹99.82/L
Kolkata 29°C
8 July 2026

Annapurna Bhandar Form: ১১ পাতার আবেদনপত্র! অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জটিল ফর্ম নিয়ে সরব তৃণমূল

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ১১ পাতার দীর্ঘ ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে বিভ্রান্তিতে সাধারণ মানুষ। সিএএ স্ট্যাটাস এবং পারিবারিক তথ্যের দাবি নিয়ে রাজ্য সরকারকে কড়া আক্রমণ করল তৃণমূল ও কংগ্রেস।

Annapurna Bhandar Form: ১১ পাতার আবেদনপত্র! অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জটিল ফর্ম নিয়ে সরব তৃণমূল
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ১১ পাতার আবেদনপত্র নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।

দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদনপত্র ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। মহিলাদের মাসে ৩,০০০ টাকা দেওয়ার এই প্রকল্পে ১১ পাতার একটি বিশাল ফর্ম পূরণ করতে হচ্ছে। আর এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া নিয়েই কড়া সমালোচনা করেছে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। এই আবেদনপত্রকে সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত জটিল বলে মন্তব্য করে তা সরল করার দাবি জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেসও।

ফর্মে কী কী তথ্য চাওয়া হয়েছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদনের জন্য প্রকাশিত ১১ পাতার ফর্মে একাধিক ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিএএ (CAA) বা নাগরিকত্ব সংশোধন আইন সংক্রান্ত স্ট্যাটাস, বিশেষ সংশোধনী প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে কি না, শিশুদের টিকাকরণের খতিয়ান, পরিবারের সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, স্বাস্থ্য বিমার স্থিতি এবং পরিবারের মোট জমির পরিমাণ। পাশাপাশি, আবেদনকারিণীর স্বামীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্যও চাওয়া হয়েছে। এই দীর্ঘ ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে যাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কম, তাঁরা এত তথ্য দিতে গিয়ে রীতিমতো বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

ভোটের আগে এক, পরে আরেক’ এই জটিল ফর্ম নিয়ে রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ভোটের আগে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ভোটের পর তা কেবলই স্মৃতি। নির্বাচনের আগে একটি অর্ধপৃষ্ঠার নমুনা ফর্ম দেখিয়েছিল বর্তমান শাসক দল। আর এখন ক্ষমতা দখলের পর ১১ পাতার ফর্ম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: মোদীর সুরে দিদি ও দিদি ডাক বাবুলের গলায়, বিতর্ক

একই সুরে সরব হয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একটি নারী কল্যাণমূলক প্রকল্পে কেন পরিবারের সকলের তথ্য এবং স্বামীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ দিতে হবে। টিকাকরণের তথ্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি কটাক্ষ করেন, সরকারি প্রকল্পে সুবিধা পাওয়ার জন্য কেন এত শর্ত চাপানো হচ্ছে।

ফর্ম সরল করার দাবি কংগ্রেসের শুধু তৃণমূল নয়, ফর্মের জটিলতা নিয়ে সরব হয়েছে কংগ্রেসও। ফর্ম পূরণের পদ্ধতিটি সরল করার দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ইতিমধ্যে চিঠি দিয়েছেন কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তিনি জানিয়েছেন, সাধারণ মহিলাদের পক্ষে এত বড় ফর্ম নির্ভুলভাবে পূরণ করা কার্যত অসম্ভব। এই বিভ্রান্তির কারণে অনেকেই ফর্ম জমা দিতে চাইছেন না।

সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এই বিশাল আবেদনপত্র ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়াতেও শুরু হয়েছে মিমের বন্যা। নেটিজেনদের একাংশ এই দীর্ঘ ফর্ম নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও শেয়ার করছেন। অনেক সাধারণ মহিলাই প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদের নিজেদের অনুদানের জন্য কেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য দিতে হবে। কেউ কেউ আবার প্রয়োজনীয় নথিপত্র জোগাড় করতে না পেরে আবেদন প্রক্রিয়া থেকেই পিছিয়ে আসার কথা ভাবছেন।

আরও পড়ুন: এক হাতে ছাতা অন্য হাতে মাইক, মোদীকে টেক্কা দিতে রাজধানীতে ব্র্যান্ড মমতা?

আগামী ১ জুন থেকে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা থাকলেও ফর্ম-জটিলতাই এখন রাজ্য প্রশাসনের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Track Latest News Live on TheBengalStory.com and get news updates from West Bengal and around the world.

Politics