ভ্যাকসিন চেয়ে ফের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লিখলেন, রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীরা যারা মূলত কোভিড মোকাবিলায় সমস্ত রকম ঝুঁকি নিয়ে সামনের সারিতে থেকে কাজ করছেন, তাঁদের সকলের টিকাকরণের বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
মুখ্যমন্ত্রী চিঠিতে জানান, রাজ্য সরকার সমস্ত ফ্রন্ট লাইন ওয়ার্কার এবং নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এমন কর্মীকে টিকা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নানা ক্ষেত্রের সমস্ত সরকারি কর্মচারীকে টিকা দেওয়ার জন্য এখনও আমাদের ২০ লক্ষ ডোজ ভ্যাকসিন প্রয়োজন।
মমতা ব্যানার্জি লিখেছেন, আমরা আপনাকে অনুরোধ করছি, সমস্ত রাজ্য সরকারকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভ্যাকসিন পাঠান, যাতে আর কাল বিলম্ব না করে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত কর্মীকে টিকা দেওয়া যায়।
আরও পড়ুন: ফের আবহাওয়ার রদবদল দক্ষিণবঙ্গে, উত্তরবঙ্গে বাড়বে বৃষ্টি; আর যা জানাল হাওয়া অফিস
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে মমতা আরও লেখেন, আর একটি বিষয় আপনাকে জানাতে চাই, আমরা লক্ষ্য করছি রেল, বিমানবন্দর, পোস্ট অফিস, ডিফেন্স, ব্যাঙ্ক, বীমা, ইত্যাদি ক্ষেত্রেগুলির কর্মচারীরা ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
রেল, বিমানবন্দর, পোর্ট প্রভৃতি কেন্দ্রীয় ক্ষেত্রের কর্মচারীরা যাঁরা জরুরি পরিষেবা সচল রেখেছেন, তাঁরা ভ্যাকসিন পাচ্ছেন না। সামনের সারিতে থেকে কাজ করা একাধিক কর্মচারী ভ্যাকসিন না পাওয়ায় তাঁরা সংক্রমিত হচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তাই সময় নষ্ট না করে এই সব সেক্টরে কর্মরত সব বয়েসীদের সত্বর ভ্যাকসিন দেওয়া হোক।
দুর্ভাগ্যবশত লক্ষ্য করছি, এই কর্মচারীদের প্রয়োজন মোতাবেক কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কোনও পরিকল্পনা নেই। এই পরিস্থিতিতে আমার অনুরোধ, কেন্দ্র যেন আর এক মুহূর্ত দেরি না করে কেন্দ্রের সমস্ত এমার্জেন্সী সেক্টরের কর্মচারী এবং একই ভাবে রাজ্য সরকারের কর্মীদের জন্য টিকার ব্যবস্থা করেন।
আরও পড়ুন: নৈহাটি পুরসভাও দখলে রাখল তৃণমূল, আস্থাভোটে ২৪-০ ব্যবধানে হার বিজেপির
উল্লেখ্য বৃহস্পতিবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ১০ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। আর বৈঠককে শেষেই ভ্যাকসিন চেয়ে ফের কেন্দ্রকে এই চিঠি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের।




