এবছর পদ্মভূষণ সম্মানের জন্য ইসরোর প্রাক্তন মহাকাশ বিজ্ঞানী নাম্বি নারায়ণনের নাম ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের তরফ থেকে এই নাগরিক সম্মানের ঘোষণার পরই নিজের প্রতিক্রিয়ায় নাম্বি নারায়ণন জানিয়েছেন, সরকার তাঁর কাজকে স্বীকৃতি দেওয়ায় তিনি গর্বিত।
কিন্তু এবার নাম্বি নারায়ণনকে এই পদ্ম সম্মান দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করে বিজ্ঞানী ও কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করলেন কেরলের প্রাক্তন এক পুলিশ কর্তা।
নাম্বি নারায়ণনকে একজন নিম্ন মানের বিজ্ঞানী বলে উল্লেখ করে টি পি সেনকুমার নামে কেরলের প্রাক্তন ডিজিপি বলেছেন, তিনি এই খবরে অবাক হয়েছেন। যাঁরা পদ্ম সম্মানের জন্য নাম্বির নাম বাছাই করেছেন, তাঁদের খোলসা করা উচিত কোন অবদানের জন্য ওই বিজ্ঞানীকে এই সম্মান দেওয়া হচ্ছে। এর আগে ১৯৯৪ সালে গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগ উঠেছিল ইসরোর প্রাক্তন এই বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে। সে সময় এর তদন্ত করেছিলেন টি পি সেনকুমার নামের ওই প্রাক্তন পুলিশ কর্তা। সেই প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেছেন, তদন্ত চলাকালীন ইসরোর প্রায় ৪ হাজার বিজ্ঞানী, আধিকারিক, কর্মীকে জেরা করেছিল পুলিশ, কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে কেউ নাম্বি সম্পর্কে ভালো কথা বলেননি। সেনকুমারের কটাক্ষ, এভাবে চলতে থাকলে তো পরের বছর দুষ্কৃতীরাও পদ্ম সম্মান পেয়ে যাবেন।
উল্লেখ্য, অতীতে ইসরোর ক্রায়োজেনিক ফুয়েল ইঞ্জিন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নাম্বি নারায়ণন। সেই সময় ১৯৯৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে গুপ্তচর বৃত্তির। দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ প্রকল্পের খুঁটিনাটি বিদেশে পাচারের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে কেরল পুলিশ। বেশ কিছু বছর তাঁকে জেলও খাটতে হয়। পরে সিবিআই এই ঘটনার তদন্তভার নেওয়ার পর গত বছর বিজ্ঞানীকে ক্লিনচিট দেয় সিবিআই। কোর্টে সিবিআই জানায়, অন্যায়ভাবে তাঁকে হেনস্থা করেছিল পুলিশ। এরপরই সুপ্রিম কোর্ট যাবতীয় অভিযোগ থেকে রেহাই দেয় বিজ্ঞানীকে। তাঁকে হেনস্থার জন্য ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশও কেরল সরকারকে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি, ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের এক কমিটিও গঠন করেছে সুপ্রিম কোর্ট। যে সমস্ত প্রাক্তন পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম এই টিপি সেনকুমার।
এই তদন্তের কথা উল্লেখ করে এই প্রাক্তন পুলিশ কর্তা দাবি করেছেন, আগে তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হোক, সত্যি মিথ্যে প্রকাশ পাক, তারপর নাম্বিকে পুরস্কার দেওয়া উচিত সরকারের।
আরও পড়ুন: ঘৃণা ছড়ানোর মন্তব্য দেশের ৫৮ জন সাংসদ, বিধায়কের বিরুদ্ধে, এডিআরের রিপোর্টে প্রকাশ।




