দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ব্যবহার করে ভয়াবহ সাইবার অপরাধের ঘটনা ঘটল অসমে। গুয়াহাটির দুটি নামী বেসরকারি স্কুলের তিন ছাত্র মিলে অন্তত ৬৪ জন ছাত্রী ও শিক্ষিকার ‘ডিপফেক’ অশ্লীল ছবি তৈরি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত ছাত্রদের সাসপেন্ড করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। অসম পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা পুরো বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে।
ইনস্টাগ্রাম থেকে ছবি নিয়ে সাইবার অপরাধ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই তিন ছাত্র স্কুলের অন্যান্য ছাত্রী এবং শিক্ষিকাদের ব্যক্তিগত ও স্কুলের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে সাধারণ ছবি সংগ্রহ করত। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়ে সেই ছবিগুলি বিকৃত করে ‘ডিপফেক’ নগ্ন ছবি এবং ভিডিও তৈরি করা হয়। শুধু তাই নয়, এই বিকৃত এবং অশ্লীল ছবিগুলি অনলাইনে বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। গোটা বিষয়টি সামনে আসার পরই তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্কুল চত্বর এবং অভিভাবক মহলে।
আরও পড়ুন: বন্ধন ব্যাঙ্ককে ১ কোটি টাকা জরিমানা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের
কড়া পদক্ষেপ স্কুল কর্তৃপক্ষের
ঘটনাটি গত ১১ জুন স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপরই তড়িঘড়ি কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অভিযুক্ত ছাত্রদের চিহ্নিত করে তাদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। একটি স্কুলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সাইবার অপরাধ এবং পড়ুয়াদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তাদের জিরো-টলারেন্স নীতি রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ‘চাইল্ড অ্যাবিউজ মনিটরিং কমিটি’ (CAMC) গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সদস্যরা ইতিমধ্যেই অভিভাবকদের সঙ্গে বিস্তারিত বৈঠক করেছেন।
স্কুল কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে অভিযুক্তদের সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে, তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন যাচাই না করা কোনো তথ্য বা ছবি ছড়িয়ে না দেওয়ার জন্য পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের কাছে কড়া আবেদন জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’ বলে কিছু নেই, আরটিআই-র জবাবে জানিয়ে দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
তদন্তে অসম পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা
এই ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে অসম পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই বিকৃত ছবিগুলির উৎস এবং কোন কোন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সেগুলি ছড়ানো হয়েছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে পুলিশ প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে।
অতীতেও এমন ঘটনার সাক্ষী শহর
গুয়াহাটির স্কুল এবং কলেজে এমন সাইবার কেলেঙ্কারির ঘটনা এই প্রথম নয়। দু’বছর আগেও শহরের একটি নামী স্কুলের একাদশ শ্রেণির তিন ছাত্রকে সহপাঠীদের নগ্ন বিকৃত ছবি ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর ২০২৩ সালেও একটি স্থানীয় কলেজের ২০ জন ছাত্রী সাইবার অপরাধীদের ফাঁদে পড়েন। একের পর এক এমন ঘটনা স্কুল-কলেজগুলিতে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার রুখতে পড়ুয়াদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাইবার এথিক্স নিয়ে নিয়মিত কড়া নির্দেশিকা জারি করার প্রয়োজন রয়েছে।