দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: অসমের জোড়হাট বায়ুসেনা ঘাঁটি থেকে ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ল ভারতীয় বিমান বাহিনীর (IAF) একটি এএন-৩২ (AN-32) পরিবহণ বিমান। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর ফের একবার এই রুশ নির্মিত বিমানের সুরক্ষা এবং অতীত রেকর্ড নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও বায়ুসেনা সূত্রে খবর, অসমের জোড়হাট থেকে রুটিন উড়ানের জন্য রওনা দিয়েছিল বিমানটি। কিন্তু টেক-অফ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের (ATC) সঙ্গে সেটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপরই রাডারের পর্দা থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় সামরিক পরিবহণ বিমানটি। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিমানটির ধ্বংসাবশেষের খোঁজে ইতিমধ্যেই বায়ুসেনা এবং সেনাবাহিনীর তরফ থেকে যৌথভাবে তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়েছে।
বারবার কেন প্রশ্নের মুখে এএন-৩২?
ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম ভরসাযোগ্য পরিবহণ বিমান হলেও, এএন-৩২ বিমানের দুর্ঘটনার ইতিহাস অত্যন্ত দীর্ঘ এবং মর্মান্তিক। সিয়াচেন হিমবাহ থেকে শুরু করে উত্তর-পূর্বের অরুণাচল প্রদেশের দুর্গম সীমান্ত এলাকায় সেনার কাছে রসদ পৌঁছনোর জন্য এই বিমানের ওপরই মূলত নির্ভর করে বায়ুসেনা। কিন্তু খারাপ আবহাওয়া এবং পাহাড়ি ভূপ্রকৃতিতে এই বিমানের নিয়ন্ত্রণ হারানো বা নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা এর আগেও একাধিকবার ঘটেছে।
অতীতের ভয়াবহ রেকর্ড
এর আগে ২০১৯ সালে এই জোড়হাট থেকেই অরুণাচল প্রদেশের মেচুকা অ্যাডভান্সড ল্যান্ডিং গ্রাউন্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর একটি এএন-৩২ বিমান পাহাড়ি জঙ্গলে ভেঙে পড়েছিল। ওই ঘটনায় বিমানে থাকা ১৩ জন সামরিক কর্মীর মৃত্যু হয়। এছাড়াও ২০১৬ সালে চেন্নাই থেকে পোর্ট ব্লেয়ার যাওয়ার পথে বঙ্গোপসাগরের ওপর নিখোঁজ হয়ে যায় আরও একটি এএন-৩২, যার সন্ধান আজও মেলেনি।
শুরু উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত
এদিনের দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই কোর্ট অফ ইনকোয়ারির নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি আচমকা আবহাওয়ার অবনতি, ঠিক কী কারণে বিমানটি ভেঙে পড়ল, তা তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত নিখোঁজ পাইলট এবং বিমানে থাকা অন্যান্য কর্মীদের উদ্ধারের দিকেই সর্বোচ্চ নজর দিচ্ছে প্রশাসন।




