দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: প্রশান্ত মহাসাগরে আনুষ্ঠানিকভাবে এল নিনো (El Nino) পরিস্থিতির সূচনা হয়েছে। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর ওপর। চলতি বছর ভারতে বর্ষার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই কম হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। আবহবিদদের আশঙ্কা, এল নিনোর কারণে দেশের বিশাল অংশে খরা পরিস্থিতি এবং কৃষিকাজে বিপুল ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্ষায় ঘাটতির বড় আশঙ্কা
ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বর্ষায় গোটা দেশে বৃষ্টির পরিমাণ লং পিরিয়ড অ্যাভারেজ বা এলপিএ-র (LPA) মাত্র ৯০ শতাংশ হতে পারে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের এই সময়ে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত না হলে তা ‘বিলো-নর্মাল’ বা ঘাটতি হিসেবে ধরা হয়। আইএমডি জানিয়েছে, এবছর বর্ষায় ঘাটতি থাকার সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশ। প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই এল নিনোর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে। আগামী মাসগুলিতে এটি আরও শক্তিশালী হবে, যা ভারতের বর্ষার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
আরও পড়ুন: পুলওয়ামায় বুথ লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা জঙ্গিদের, ভোট চলাকালীন কাশ্মীরে ফের অশান্তি
কৃষিকাজ ও অর্থনীতিতে ধাক্কা
এল নিনো সাধারণত ভারতের বৃষ্টিপাতকে বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে উত্তর-পশ্চিম ও মধ্য ভারতে খরার ঝুঁকি প্রবল। দেশের কৃষিক্ষেত্র, যা মূলত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর ওপর নির্ভরশীল, তা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বিশেষত খরিফ শস্য যেমন ধান ও ডাল চাষে এই কম বৃষ্টির প্রভাব সরাসরি পড়বে। উৎপাদন কমলে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিও ধাক্কা খাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
খরা এবং চরম আবহাওয়ার জোড়া বিপদ
একদিকে যখন এল নিনোর জেরে বৃষ্টির অভাব দেখা দেবে, অন্যদিকে অসময়ে পশ্চিমা ঝঞ্ঝার কারণে পাহাড়ি এলাকায় হড়পা বান বা ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘটনাও ঘটতে পারে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরে ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল (IOD) পরিস্থিতি বর্তমানে নিরপেক্ষ অবস্থায় রয়েছে। এটি যদি ইতিবাচক দিকে মোড় নিত, তবে এল নিনোর নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা হলেও কমতে পারত। তবে আপাতত সেই সম্ভাবনা কম। ফলে আগামী দিনগুলিতে প্রবল গরম, অনাবৃষ্টি এবং চরম আবহাওয়ার জন্য দেশকে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




