দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: রাজ্যের গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৮,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করল কেন্দ্র। সোমবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে ‘জনকল্যাণ শিবির’ কর্মসূচির উদ্বোধন করতে গিয়ে এই বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের (MGNREGA) পরিবর্তে এবার দেশজুড়ে ‘ভিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন গ্রামীণ’ বা ভিবি-জি র্যাম জি (VB-G RAM G) প্রকল্প চালু হয়েছে। এর অধীনে রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার মানুষ বছরে ১২৫ দিন কাজ পাবেন।
১০০ দিনের বদলে নয়া প্রকল্প এবং সড়কে বরাদ্দ মুখ্যমন্ত্রী জানান, গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রের এই নয়া প্রকল্পের অধীনে রাজ্যকে ৮,৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ‘গ্রাম সড়ক যোজনা’ মারফত গ্রামীণ রাস্তার পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ২,৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১,০০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যে রাজ্যের হাতে তুলেও দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই জোড়া বরাদ্দের ফলে গ্রাম বাংলার চেহারা অনেকটাই বদলাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
রাজ্যজুড়ে ১১০০ জনকল্যাণ শিবির রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা সহজে পৌঁছে দিতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। ১৫ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে প্রায় ১,১০০টি ‘জনকল্যাণ শিবির’ আয়োজন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে বিজেপি সরকারের এটিই প্রথম এই ধরনের জনসংযোগ কর্মসূচি। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই শিবিরগুলি চলবে। সেখানে গিয়ে সাধারণ মানুষ অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত সহ মোট ৫৪টি কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন।
আরও পড়ুন: বয়স মাত্র দেড় বছর, ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডে নাম বাংলার ফারহা জামিয়ার
‘প্রকৃত উপভোক্তারাই সুবিধা পাবেন’ গত সরকারের আমলে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বন্টনে বেনিয়ম নিয়ে এদিন কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, বেআইনি অনুপ্রবেশকারী কিংবা ভুয়ো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কেউ আর সরকারি সাহায্য পাবেন না। তাঁর কথায়, সরকার চায় প্রকৃত এবং যোগ্য উপভোক্তাদের হাতেই যেন সব সুবিধা পৌঁছয়। পাশাপাশি, যে সমস্ত পরিবার নিজেদের সন্তানদের সরকার অনুমোদিত স্কুলে পাঠায় না বা যেখানে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হয় না, তাদের সরকারি প্রকল্পের আওতায় সুবিধা দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।