দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: ভারতের অটোমোবাইল বাজারে সাশ্রয়ী মূল্যের ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। পেট্রোল এবং ডিজেলের লাগামহীন দামের কথা মাথায় রেখে টাটা মোটরস এবং এমজি মোটরস ইতিমধ্যেই ১০ লাখ টাকার আশেপাশে ইভি নিয়ে এসে বাজিমাত করেছে। তবে এবার সেই দৌড় আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে চলেছে, কারণ হুন্ডাই এবং মারুতি সুজুকির মতো প্রথম সারির সংস্থাও এই সেগমেন্টে নিজেদের মডেল আনার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বর্তমান বাজারে জনপ্রিয় সাশ্রয়ী ইভি
ভারতের রাস্তায় এখন ১০ লাখ টাকার আশেপাশে বেশ কয়েকটি ইলেকট্রিক গাড়ি দেখা যাচ্ছে। টাটা মোটরসের টিয়াগো ইভি (Tiago EV) তার কমপ্যাক্ট সাইজ এবং উন্নত ফিচার্সের জন্য মধ্যবিত্তের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, এমজি কমেট ইভি (MG Comet EV) মূলত শহরের যাতায়াতের জন্য ছোট এবং স্মার্ট গাড়ি হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই তালিকায় সিট্রোয়েন ইসি৩ (Citroen eC3) মডেলটিও তার রেঞ্জের জন্য পরিচিত। অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গাড়িগুলো ব্যাটারি প্রযুক্তি এবং চার্জিং পরিকাঠামোর উন্নতির ফলে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।
কেন ১০ লাখের ইভি গেমচেঞ্জার?
ভারতের মতো দেশে যেখানে বাজেট গাড়ি কেনার হার সবচেয়ে বেশি, সেখানে ১০ লাখ টাকার নীচে ভালো মানের ইলেকট্রিক গাড়ি কার্যত একটি গেমচেঞ্জার। প্রথমবার যারা গাড়ি কিনছেন, তাদের কাছে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম হওয়ায় ইভি একটি আদর্শ বিকল্প। ব্যাটারির উৎপাদন খরচ কমলে এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে চার্জিং স্টেশন বাড়লে আগামী ২-৩ বছরে ইভির দাম আরও নাগালের মধ্যে আসবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
হুন্ডাই ও মারুতির নতুন পরিকল্পনা
সাশ্রয়ী ইভির বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে হুন্ডাই তাদের নিজস্ব নতুন প্ল্যাটফর্মে ছোট ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেছে। অন্যদিকে, মারুতি সুজুকি তাদের ইভিএক্স (eVX) সিরিজের পাশাপাশি সাশ্রয়ী ইলেকট্রিক গাড়ির ওপর জোর দিচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, ভারতের মাঝারি পরিবারের চাহিদার কথা মাথায় রেখে মারুতি তাদের বহুল জনপ্রিয় মডেলগুলোর ইলেকট্রিক ভার্সন আনতে পারে। টাটা এবং এমজি-র একচেটিয়া বাজারে এই দুই সংস্থার প্রবেশ অটোমোবাইল বাজারে বড় রদবদল আনতে চলেছে।




