সাম্প্রদায়িকতা ইস্যুতে বিধানসভায় বিজেপির বিরুদ্ধে সর্বদলীয় প্রস্তাব আনছে তৃণমূল

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে বিধানসভায় আলোচনার প্রস্তাব দিল বাম ও কংগ্রেস। এর প্রেক্ষিতে অধ্যক্ষের কাছে সর্বদলীয় প্রস্তাব আনার জন্য উদ্যোগী হল তৃণমূল। বাংলায় ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার ইস্যুতে তৃণমূল, কংগ্রেস ও বামেদের একজোট হওয়াকে বিঁধতে ছাড়েনি বিজেপি। বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের কটাক্ষ, বিজেপির শক্তিবৃদ্ধিতে ভয় পেয়েই তিন দলের এই কাছাকাছি আসা। ক’দিন আগে বিধানসভায় সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী ও কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নানকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে তুলে ধরে তিন দলকেই খোঁচা দেন ওই বিজেপি নেতা। যদিও তৃণমূল,কংগ্রেস ও বামেদের দাবি, মতাদর্শ আলাদা হলেও, সাম্প্রদায়িকতা ইস্যুতে সবাইকে একজোট হতে হবে।
সোমবার বিধানসভায় সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, আগে এ রাজ্যে যে পরিস্থিতি ছিল না, এখন তাই দেখা দিচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএস পশ্চিমবঙ্গে যা করছে তা আগে দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন সুজন চক্রবর্তী। সেই সঙ্গে তিনি এও দাবি করেন, রাজ্যের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূল যদি তাদের কোনও দোষ নেই বলে অনড় থাকে, তবে বিধানসভায় এ নিয়ে আলোচনা করা যাবে না। সুজন চক্রবর্তী দাবি করেন, রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দিতে হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পে কমিশন, কাটমানি, লোকসভা ভোট পরবর্তী হিংসা, পিটিয়ে হত্যা এবং সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী।
কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান বিধানসভায় বলেন, ধর্মের জন্য এভাবে কাউকে খুন হতে হয়নি এর আগে। সরকার পক্ষও এই ব্যাপারে সমর্থন করবে বলেই তাঁর বিশ্বাস। রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ ঝাড়খণ্ড কিংবা উত্তর প্রদেশের মতো নয়। বাংলায় ধর্মের ভিত্তিতে যারা বিভাজনের চেষ্টা করছে, তারা কখনই সফল হবে না বলে মন্তব্য করেন তৃণমূল মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

Comments are closed.