জলপাইগুড়ি জেলা থেকে রাজ্যের একমাত্র মন্ত্রী তিনি। বন্ধ চা বাগানের গেট থেকে বিধানসভার অন্দরমহল পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত রাজ্য মন্ত্রিসভা। অনেকটা পথ পেরোতে হয়েছে মালবাজারের বুলু চিকবড়াইককে। আজ সেই বুলু মমতা মন্ত্রিসভার অন্যতম মুখ। অনগ্রসর উন্নয়ন এবং আদিবাসী উন্নয়নের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব তাঁর হাতে।
রাজনৈতিক উত্থান বাম আমলে চা শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে। ১৯৯৮ সালে চা বাগানে পঞ্চায়েত ভোটে সিপিএম প্রার্থী হিসেবে জয়। ১৯৯৮, ২০০৩ এবং ২০০৮ টানা তিন বার মাল পঞ্চায়েত জিতে হ্যাটট্রিক করেন বুলু।
এক টানা বহু বছর সিপিএমে থাকার পর ২০১৬ তে প্রথম তৃণমূলের হয়ে বিধানসভা ভোটে লড়াই বুলু চিকবরাইকের। ২০২১ এর নির্বাচনেও বুলু মাল বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী।
আরও পড়ুন: মাধ্যমিকে কৃতীদের ফোন করে শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী; আমন্ত্রণ করলেন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও
বাবা-মা দু’জনেই ছিলেন চা শ্রমিক। অধিকারের লড়াই, শ্রমজীবী সংগ্রামের মধ্যেই কেটেছে বুলুর ছোটবেলা। বাগানে চা পাতা তোলা থেকে চা শ্রমিক, এমন কী বাগানের চৌকিদার হিসেবেও কাজ করছেন বুলু চিকবড়াইক।
লোক মুখে শোনা যায়, তরুণ বুলু ছিলেন এলাকার প্রশংসিত ফুটবলার। রাজনীতি তাঁর সঙ্গী হলেও কাজের ফাঁকে সময় কাটান এলাকার মানুষদের সঙ্গে। চষে বেড়ান এলাকা। ডুয়ার্স এলাকার মধ্যে চিকবড়াইকরা সংখ্যালঘু আদিবাসী সম্প্রদায়। সেই সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা বুলুবাবু এখন চিকবড়াইকদের গর্ব।
সিপিএম নেতা পরিমল মিত্র মন্ত্রী হওয়ার পর প্রায় সাড়ে তিন দশক মালবাজার থেকে মন্ত্রিসভায় কারও প্রতিনিধিত্ব ছিল না। সোমবার রাজভবনে মন্ত্রী হিসাবে বুলু চিকবড়াইক শপথ নিয়ে সেই শূন্যস্থান পূরণ করলেন।
আরও পড়ুন: বাংলা ছাড়িয়ে তৃণমূল নেত্রীর ২১ শে বার্তা এবার দিল্লীতেও




