দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষা শেষে অবশেষে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল বা চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন স্থাপনের জট খুলল। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রায় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
১০ বছর পর প্রকল্পে গতি ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় আনোয়ারায় এই অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের বিষয়টি প্রথম আলোচনায় আসে। এরপর জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও অর্থায়ন কাঠামো, ডেভেলপার নিয়োগ এবং প্রশাসনিক নানা জটিলতায় প্রকল্পটি বছরের পর বছর আটকে ছিল। জানা গিয়েছে, আগামী ২৩ জুন থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের প্রস্তাবিত চীন সফর শুরু হতে চলেছে। তাঁর এই সফরের ঠিক আগেই প্রকল্পটির অনুমোদন দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে বড় ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
কোথায় কত খরচ? পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে খবর, প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দেবে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। বাকি ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকার বেশি আসবে চীনের ঋণ সহায়তা থেকে। আনোয়ারার বেলচুরা এলাকায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর এই ইকোনমিক জোন তৈরি হচ্ছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তা শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় চার লেনের সড়ক, জেটি, সেতু এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
বিনিয়োগ ও বিপুল কর্মসংস্থানের আশা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) মতে, আনোয়ারার এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি দেশের রফতানিমুখী শিল্পায়নে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। প্রকল্পটির অবস্থান কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় এটি বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এই অঞ্চলে অন্তত ৫০ কোটি থেকে ১০০ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এখানে মূলত বস্ত্র, ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স এবং হালকা প্রকৌশল শিল্পের কারখানা গড়ে তোলা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর শর্ত: চাই সবুজ শিল্পায়ন মঙ্গলবার একনেকের সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ সুরক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। শিল্পাঞ্চলে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, উন্নত পানি শোধন বা সেন্ট্রাল ইটিপি এবং তা পুনর্ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুরো শিল্পাঞ্চলে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে সৌর প্যানেল বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পায়নের এই শর্ত মেনেই চূড়ান্ত ছাড়পত্র পেয়েছে প্রকল্পটি।
আরও পড়ুন: কতটা কমল, কতটা বাড়ল সোনার দাম!! জানুন আজকের বাজার দর