দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: রাজধানী দিল্লিতে দূষণের মাত্রা কমাতে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে প্রশাসন। ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে শহরে পেট্রোল চালিত দু-চাকার গাড়ির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পরিকল্পনা করছে দিল্লি সরকার। মূলত বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে এবং বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
কেন এই কড়া সিদ্ধান্ত?
দিল্লির বায়ুর গুণমান দীর্ঘ দিন ধরেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীতকালে বাতাসের বিষাক্ত মাত্রা সামাল দিতে বিভিন্ন সময় গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান (GRAP) কার্যকর করতে হয়। সরকারের নথিপত্র অনুযায়ী, শহরের মোট দূষণের একটি বড় অংশ আসে যানবাহন থেকে। এর মধ্যে বিপুল সংখ্যক পেট্রোল চালিত বাইক এবং স্কুটার রয়েছে। দূষণের উৎস কমাতেই সরকার এখন লক্ষ্য স্থির করেছে যে ২০২৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে নতুন কোনো পেট্রোল চালিত দু-চাকা দিল্লিতে রেজিস্টার করা হবে না।
পর্যায়ক্রমিক রূপান্তর
এই নিষেধাজ্ঞা রাতারাতি কার্যকর করা হবে না। সরকার একটি সুপরিকল্পিত রূপরেখা তৈরি করছে যাতে সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ী, উভয় পক্ষই প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পান। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সময়সীমার মধ্যে ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক দু-চাকার গাড়ির (EV) বাজার সম্প্রসারণ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী তিন বছরের মধ্যে রাজধানীর রাস্তায় পেট্রোল চালিত গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা। পরিবহণ দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ইভি চার্জিং স্টেশন তৈরির কাজও দ্রুত গতিতে চলছে।
আরও পড়ুন: Gujarat Industrial Policy 2026: শিল্পে ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড়, নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা গুজরাতের
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
হঠাৎ করে এই নিষেধাজ্ঞার খবরে বাইক এবং স্কুটার মালিকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী তিন বছরে বৈদ্যুতিক গাড়ির দাম এবং ব্যাটারির সক্ষমতা অনেক উন্নত হবে। বর্তমানে বেশ কিছু কোম্পানি সাশ্রয়ী মূল্যে ইভি বাজারে আনছে। সরকার যদি এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ইভি ক্রয়ের ওপর ভর্তুকি বা সাবসিডি বজায় রাখে, তবে ক্রেতাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি, পাবলিক ট্রান্সপোর্টের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিচ্ছে প্রশাসন।
রাজধানীর এই মডেল সফল হলে, তা ভবিষ্যতে ভারতের অন্যান্য মেট্রো শহরগুলোর জন্যও একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। তবে ২০২৮ সালের এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে পরিকাঠামো উন্নয়নে সরকার এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।
আরও পড়ুন: সুখবর! দিওয়ালির আগেই বৃদ্ধি পেতে চলেছে ব্যাঙ্ক কর্মীদের বেতন




