দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: ২০৪৭ সালের মধ্যে রাজ্যের অর্থনীতিকে ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এক বড় পদক্ষেপ করল সরকার। সোমবার গান্ধীনগরে ‘বিকশিত গুজরাত ২০৪৬’ বা নতুন শিল্পনীতি (Gujarat Industrial Policy 2026) ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল এবং উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি। এই নীতিতে ক্ষুদ্র, মাঝারি শিল্প এবং স্টার্টআপগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
‘চুজ ইয়োর ইনসেনটিভ’ এবং থ্রাইভ প্রকল্প বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে এই প্রথম ‘চুজ ইয়োর ইনসেনটিভ’ বা নিজেদের পছন্দমতো আর্থিক সুবিধা বেছে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শহরের যানজট কমাতে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে শিল্পের স্থানান্তরের জন্য ‘থ্রাইভ’ (T.H.R.I.V.E.) প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে শহরাঞ্চলে শিল্পের চাপ কমবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে বলে সরকারের দাবি।
কাদের জন্য কত শতাংশ ছাড়? খেলনা, জুতো, রোবোটিক্স, ড্রোন এবং খেলাধুলোর সরঞ্জাম তৈরির মতো বিশেষ কয়েকটি ক্ষেত্রকে এই নীতিতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই সব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে। অন্যদিকে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও অতিক্ষুদ্র শিল্প (MSME) ক্ষেত্রগুলি ১৫ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড় পেতে পারে। মেগা এবং আল্ট্রা মেগা শিল্প প্রকল্পগুলি, যেখানে বিনিয়োগের পরিমাণ এক হাজার থেকে দশ হাজার কোটি টাকা, সেখানে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি সহায়তা মিলবে।
আরও পড়ুন: Budget 2021: দাম বাড়ল কার? কমলো কী?
লক্ষ্য ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল জানান, নতুন শিল্পনীতি মূলত চারটি শক্তিশালী স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে: বিনিয়োগ ও উৎপাদন, উদ্ভাবন ও গবেষণা, দক্ষতা বিকাশ ও কর্মসংস্থান এবং পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন। ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশের মোট জিডিপি-তে গুজরাতের অবদান ৮.২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে দেশের মোট উৎপাদনের ১৮ শতাংশ এবং রফতানির ২৫ শতাংশ আসে গুজরাত থেকে। নতুন শিল্পনীতি রাজ্যের অর্থনীতিকে শুধু মজবুতই করবে না, পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থানের পথও খুলে দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছে প্রশাসন।