অবসর কাটে ছোটদের অঙ্ক শিখিয়ে। চারটি সরকারি চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও, ছকে বাঁধা পথে না হেঁটে রাজনীতির ময়দানে। একুশের নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের চন্ডিপুর কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী আশিস গুছাইত।
১ মার্চ, বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় ভোট চন্ডিপুরে। তার আগে এদিন The Bengal story এর সঙ্গে কথা বললেন একুশের নির্বাচনে বামেদের তরুণ ব্রিগেডের অন্যতম মুখ।
এমন উত্তপ্ত সময়ে রাজনীতিতে কেন?
লাল ঝাণ্ডার প্রতি ছোট থেকেই দুর্বলতা, ক্লাস নাইন থেকে SFI করছি, রাজনীতি আমার অপরিচিত জায়গা নয়, জানান আশিস। সেই সঙ্গে বিরোধীদের সমালোচনা করে তাঁর মন্তব্য, তৃণমূল, বিজেপি যেভাবে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতি করছে সেখান থেকে মুক্তির রাস্তা একমাত্র আমরাই দেখাতে পারব। প্রার্থীর দাবি, বামপন্থীরাই একমাত্র খেটে খাওয়া মানুষের কথা বলে।
২০১৯ এর লোকসভা ভোটে বামেদের হাত খালি। এই অবস্থায় নিজের স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে মূলধন করে একুশের মহাযুদ্ধে ঝাঁপিয়েছেন সিপিএম প্রার্থী। বললেন, দেখুন ২০১৯ সালে আমরা মানুষের যে সমর্থন হারিয়েছি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে এবারে আমরা তা ফিরে পাব। সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীদের প্রতি মানুষের বিশ্বাস জন্মেছে।
কথার মাঝেই হেসে ফেলে বলেন, জানেন তৃণমূল, বিজেপি আমার কেন্দ্রে কী বলে ভোট চাইছে? ওঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলছে আশিস ভালো ছেলে, কিন্তু সিপিএম, বিজেপিকে আটকাতে পারবে না। আবার বিজেপি একই কথা বলে বলছে, সিপিএম তৃণমূলকে আটকাতে পারবে না। তাই ওকে ভোট দেবেন না!
সিপিএমের তরুণ মুখের বিপরীতে তৃণমূলের তারকা প্রার্থী অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। বিনয় রেখেই তারকা তত্ত্ব খারিজ করলেন আশিস। তাঁর মন্তব্য, প্রার্থী হওয়ার পর তিনি সোহমকে চিনেছেন। তৃণমূল প্রার্থীর ব্যাপারে তার আগে কিছুই জানতেন না। পাশাপাশি বললেন, দেখুন যেটুকু শুনেছি উনি অভিনয় ভালো করেন। কিন্তু অভিনয়ের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক কী? মানুষ একবার তৃণমূলের তারকাদের ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন, তার ফলাফল কী হয়েছে তাও মানুষ জানেন। তরুণ বাম নেতার দাবি, সেলিব্রিটি ফ্যাক্টর ইভিএমে কোনও প্রভাব ফেলবে না।
২০১০ সালে এসএফআইয়ের জেলা সভাপতি, বর্তমানে সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য। ৩০ মার্চ ছিল প্রচারের শেষ দিন। পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি খুঁটিয়ে দেখে নিচ্ছেন চন্ডিপুরের সিপিএম প্রার্থী। হাতে তো আর একদিন, কীভাবে নার্ভ চাঙ্গা রাখছেন? আলিমুদ্দিনের তরুণ সৈনিক মুচকি হেসে বললেন, সারা বছর পড়াশোনা করেছি, তাই চাপ নিচ্ছি না। ফলাফল আমাদের পক্ষেই থাকছে।
আরও পড়ুন: সুদূর ইংল্যান্ডে রেল স্টেশনের নাম লেখা হল বাংলা হরফে