বুধবার রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতিকে ‘ম্যান মেড’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। তাঁর অভিযোগের তীর ছিল DVC-এর দিকে। কাঠগড়ায় তুলেছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকাকে।
আর বৃহস্পতিবার পাল্টা আসরে নামলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ DVC নিয়ে অসত্য কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী। DVC নিয়ন্ত্রণে রাজ্যেরও দায়িত্ব রয়েছে।
শুভেন্দু আরও বলেন, DVC এর জল ছাড়া নিয়ে যে কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, সেই কমিটিতে সদস্য রয়েছেন রাজ্যের সেচ দফতরের সচিব। তাঁর দাবি, রাজ্যের বন্যা কবলিত এলাকায় মানুষের যে দুর্গতি তার জন্য দায়ী একমাত্র রাজ্য সরকার। বিরোধী দলনেতা আরও অভিযোগ করেন, DVC জল ছাড়ার আগে থেকে রাজ্যকে জানিয়েছে। তা সত্ত্বেও সরকার সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেনি।
আরও পড়ুন: বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসেই নন্দীগ্রাম গণনা মামলার শুনানি
বৃহস্পতিবার প্রথমে ফোনে DVC কে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশ জানান মুখ্যমন্ত্রী। পরে রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি সহ একগুচ্ছ অভিযোগ করে নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দেন তৃণমূল নেত্রী। এদিন শুভেন্দু জানান, তিনিও পাল্টা চিঠি লিখবেন প্রধানমন্ত্রীকে। রাজ্যের তিন জেলা, কলকাতা সহ একাধিক জায়গায় মানুষ যে জল যন্ত্রনায় ভুগছেন তা নিয়ে রাজ্যের গাফিলতির অভিযোগ জানিয়ে তিনি চিঠি লিখবেন। কলকাতায় জল জমা নিয়ে এদিও ফের একবার কটাক্ষের সুর শোনা যায় তাঁর গলায়। বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের জানা উচিত এখানকার রাজ্য সরকার কীভাবে দুয়ারে নর্দমা প্রকল্প শুরু করেছে।
এদিন শুভেন্দুর মন্তব্যের জন্য তাঁকে তীব্র আক্রমণ করেছে তৃণমূল। বিধায়ক তাপস রায় বলেন, শুভেন্দু তো কয়েকদিন আগেও সেচ মন্ত্রী ছিলেন। উনিও তো বন্যার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকাকে দায়ী করতেন। DVC ৫০ হাজার কিউসেক বলে প্রায় দু’লক্ষ কিউসেক জল ছেড়েছে। কোনও পরিকল্পনা ছাড়া অবিবেচক কাজের জন্যই রাজ্যের এই বন্যা পরিস্থিতি।
সব মিলিয়ে DVC নিয়ে রাজ্যের শাসক বিরোধীর তরজার মধ্যেই চরম ভোগান্তির শিকার আমজনতা।
আরও পড়ুন: নাম ঘোষণা হতেই অসন্তোষ প্রকাশ, পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবেকে নিয়ে কেন আপত্তি মমতার?




