গেরুয়া চাপে নতিস্বীকার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের: গুজরাত দাঙ্গা, গণপিটুনি থেকে মার্ক্সবাদ-নকশালবাদ বাদ গেল পাঠ্যক্রম থেকে

আরএসএস ঘনিষ্ঠ শিক্ষক সংগঠনের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের। অন্তত দুটি বিভাগে পাঠ্যক্রমে বদল আনতে বাধ্য হল দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক চলাকালীন সিলেবাসে আপত্তিকর বিষয় বদলানোর দাবিতে বিক্ষোভ দেখায় আরএসএস প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক টিচার্স ফ্রন্ট বা এনডিটিএফ। সেই সময় হলের বাইরে বিক্ষোভ দেখায় এবিভিপি। জোড়া বিক্ষোভের জেরেই পাঠ্যক্রমে বদল বলে মনে করা হচ্ছে।
ইংরেজি এবং ইতিহাসের বিভাগীয় প্রধানরা বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ‘এ প্রসঙ্গে আমরা আর কোনও বিতর্ক চাই না’, মন্তব্য দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক রাজ কুমারের।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবারের বৈঠকে মূলত ইংরেজি, ইতিহাস, পলিটিক্যাল সায়েন্স এবং সোশিওলজি, এই ৪ টি বিষয় নিয়ে নিজেদের আপত্তির কথা জানায় এনডিটিএফ এবং এবিভিপি। ইংরেজি পাঠ্যক্রমে গুজরাত দাঙ্গা সম্পর্কিত মনিবেন ওরফে বিবিজানের গল্প নিয়ে আপত্তি তুলেছিল এনডিটিএফ। পাশাপাশি পাঠ্যক্রমে মুজফফরনগর দাঙ্গা, গণপিটুনির ঘটনা সহ বিভিন্ন বিষয়ের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে আরএসএসের শিক্ষক সংগঠন।
গত মঙ্গলবার পাঠ্যক্রমে বদলের দাবি জানিয়ে আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি বিক্ষোভ দেখায়। উপাচার্যের বাসভবনও ঘেরাও করা হয়। এনডিটিএফের এক সদস্যের দাবি, ইতিহাসে নকশালবাদ এবং মার্ক্সবাদ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, গণআন্দোলন চ্যাপ্টারে মাওবাদী আন্দোলনের উল্লেখ থাকলেও বৈদিক যুগের উল্লেখ নেই, তা নিয়েও নিজেদের আপত্তির কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিল বৈঠকে নথিভুক্ত করানো হয়েছে বলে দাবি সঙ্ঘ পরিবার প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠনের এক সদস্যের।
অধ্যাপক রাজকুমার জানিয়েছেন, গুজরাত দাঙ্গা, মুজফফরনগর দাঙ্গা কিংবা পৌরানিক দেব-দেবীর যৌনতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো বাদ পড়েছে।
সূত্রের খবর এনডিটিএফের সদস্য তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রসল সিংহ কাউন্সিল বৈঠকে দাবি করেছিলেন, সাহিত্য ও জাতি ব্যবস্থা পেপারে সন্ত তুকারাম, প্রেমচন্দ এবং অন্যান্যদের সৃষ্টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সেই সময় কাউন্সিলে উপস্থিত অন্য সদস্যরা তাঁকে জানান, এই পেপারটি ১৯৭০ সালের দলিত প্যান্থার আন্দোলনের পর দলিত লেখকদের লেখনিতে কীভাবে দলিতদের আত্মপরিচয় বিবৃত হয়েছে, তা নিয়ে। পাশাপাশি তাঁকে জানানো হয় সন্ত তুকারাম কিংবা প্রেমচন্দ, কেউই দলিত ছিলেন না। তাই তাঁদের অন্তর্ভুক্তি সম্ভব নয়। যদিও পেপারটিকে বাধ্যতামূলক থেকে বর্তমানে ঐচ্ছিক করে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে সঙ্ঘের শিক্ষক সংগঠনের চাপের মুখে বদল এসেছে ইতিহাসের পাঠ্যক্রমেও। ইতিহাসে ডেমোক্রেসি অন ওয়ার্ক পেপার থেকে মার্ক্সবাদ বিষয়টিও হঠানোর দাবি জানিয়েছিল এনডিটিএফ। যদি তাদের সেই দাবি মানা হয়নি বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের বিভাগীয় প্রধান সুনীল কুমার। যদিও পলিটিক্যাল সায়েন্স এবং সোশিওলজির পাঠ্যক্রমে কী কী বদল এসেছে তা এখনও জানা যায়নি।
এদিকে সঙ্ঘের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি এবং শিক্ষক সংগঠন এনডিটিএফের এই বিক্ষোভের প্রতিবাদ করে পাল্টা সমাবেশ করেছে বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই।

Comments are closed.