নিজস্ব সংবাদদাতা: কাছের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া প্রশংসা যেমন কাজের শক্তি বাড়িয়ে দেয়, তেমনই তার স্পষ্ট সমালোচনা অনেক সময় ভুলত্রুটি শুধরে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমার ও তাঁর স্ত্রী টুইঙ্কল খন্নার দীর্ঘ চব্বিশ বছরের দাম্পত্য জীবনের সমীকরণটিও ঠিক এই রকম। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে অক্ষয় কুমারের নতুন ছবি ‘ওয়েলকাম ট্যু দ্য জঙ্গল’। এই ছবির প্রচারের ফাঁকে এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও দাম্পত্যের এক অজানা দিক নিয়ে মুখ খুলেছেন, যা সাধারণ দম্পতিদের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এক বড় বার্তা দেয়।
সাক্ষাৎকারে অক্ষয়কে প্রশ্ন করা হয়, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সমালোচক কে? কোনো রকম লুকুছাপা না করে অভিনেতা সরাসরি তাঁর স্ত্রী টুইঙ্কল খন্নার নাম নেন। তিনি জানান, টুইঙ্কল শুধু তাঁর কাজের মূল্যায়নই করেন না, প্রয়োজনে অত্যন্ত কড়া ভাষায় সমালোচনাও করেন। অক্ষয় মজার ছলে বলেন, এই ব্যাপারে টুইঙ্কল রীতিমতো নির্মম। তবে এই নির্মমতার পেছনে কোনো নেতিবাচকতা বা খাটো করার মানসিকতা থাকে না, থাকে কেবলই সততা ও ভালোবাসা।
নির্মম সমালোচনা ও ডাবিং থিয়েটারের সেই বিশেষ বার্তা অক্ষয় কুমার স্পষ্ট জানান যে টুইঙ্কলের এই স্পষ্টবাদিতাকে তিনি অত্যন্ত সম্মান করেন। স্ত্রী একজন সফল লেখিকা ও প্রাক্তন অভিনেত্রী হওয়ায় তাঁর মতামতের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে অক্ষয়ের কাছে। অভিনেতা একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, একবার একটি ছবির ডাবিংয়ের কাজ চলছিল। সেই সময় ছবির ট্রেলার দেখে টুইঙ্কল অক্ষয়কে একটি প্রশংসা সূচক বার্তা পাঠান। স্ত্রী সাধারণত কঠোর সমালোচনা করেন বলে তাঁর কাছ থেকে পাওয়া এই প্রশংসা অক্ষয়কে এতটাই আনন্দিত করেছিল যে তিনি সঙ্গে সঙ্গে সেই মেসেজটি ছবির পরিচালক প্রিয়দর্শনকেও দেখান।
দাম্পত্যে প্রশংসা বনাম সমালোচনা: কী বলছেন মনোবিদরা? অক্ষয় ও টুইঙ্কলের এই সমীকরণ নিয়ে দিল্লির বিশিষ্ট মনোবিদ অতুল রাজের মতামত বেশ ইতিবাচক। তাঁর মতে, সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ভিত্তি কেবল অন্ধ প্রশংসা হতে পারে না। সম্পর্কের মধ্যে সত্যি কথা বলা এবং একে অপরের ভুলত্রুটিগুলি সুন্দরভাবে ধরিয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। মনোবিদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মানুষ প্রায়ই সমাজমাধ্যম বা বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে কাজের ভালো শংসাপত্র খোঁজে। কিন্তু যে মানুষটি সবচেয়ে কাছের, যিনি জীবনের প্রতিটি মোড়, সাফল্য এবং দুর্বলতা খুব ভালো করে চেনেন, তাঁর দেওয়া সততাপূর্ণ মতামতের গুরুত্ব সম্পূর্ণ আলাদা।
আবেগজনিত নিরাপত্তা ও মজবুত সম্পর্কের চাবিকাঠি মনোবিদরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সম্পর্কে থাকার অর্থ এই নয় যে সঙ্গীকে খুশি করতে সব সময় বাড়িয়ে ভালো বলতে হবে। বরং সমালোচনা যদি সঠিক উপায়ে এবং ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে করা হয়, তবে তা মানুষকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি ভালো কাজের অকুণ্ঠ প্রশংসাও সমান জরুরি। যখন একজন সঙ্গী বোঝেন যে তাঁর কঠিন লড়াইয়ে পাশের মানুষটি কেবল অন্ধ দর্শক নন, বরং তাঁর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য দিচ্ছেন এবং সততার সঙ্গে পাশে আছেন, তখন সম্পর্কের অভ্যন্তরে একটি গভীর আবেগজনিত নিরাপত্তা তৈরি হয়। অক্ষয় ও টুইঙ্কলের দাম্পত্যের চাবিকাঠিও লুকিয়ে রয়েছে এই পারস্পরিক সততা ও গভীর বিশ্বাসের মধ্যে।




