বিস্তর টালবাহানা ও চাপানউতোর চলার পর মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন দেবেন্দ্র ফড়নবিস। শুক্রবার মধ্যরাতেই শেষ হচ্ছে মহারাষ্ট্রের বিদায়ী সরকারের মেয়াদ। তার আগে পর্যন্ত সরকার গড়া নিয়ে জোট শরিক শিবসেনার সঙ্গে কোনও সমাধানে আসতে পারল না বিজেপি। অবশেষে দীর্ঘ ১৫ দিনের টানাপড়েনের পর শুক্রবার দুপুরে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগৎ সিংহ কেশিয়ারির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ফড়নবিস। ফলে নতুন সরকার গঠন আপাতত থমকে গেল। এই পরিস্থিতিতে আগামী কাল থেকেই মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে।
গত ২৪ অক্টোবর বিধানসভা ভোটের ফলা প্রকাশের পরেই বিজেপি ও শিবসেনার মধ্যে সরকার গঠন নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। ৫৬ আসন পাওয়া শিবসেনার দাবি ছিল, ৫০-৫০ ফর্মুলা মেনে সরকার গঠন করতে হবে। সেই অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আড়াই বছর করে দুই দল মুখ্যমন্ত্রীর পদ পাবে। পাশাপাশি মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রেও শিবসেনাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হবে বলে দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু প্রথম থেকেই বিজেপি জোট সঙ্গীর চাপের কাছে নতিস্বীকার করেনি। এ নিয়ে দুই দলের মধ্যে বহুবার বৈঠক হলেও কোনও মিমাংসায় আসতে পারেনি তারা। গত ১৫ দিনে এই ইস্যুতে বিস্তর জলঘোলা হয়। শিবসেনা বিজেপিকে ছাড়াই কংগ্রেস, এনসিপি ও নির্দলদের নিয়ে সরকার গড়ার চিন্তাভাবনা করে। শিবসেনার নেতারা এ ব্যাপারে কংগ্রেস ও এনসিপি নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকও করেন। কিন্তু কংগ্রেস এবং এনসিপি জানিয়ে দেয়, তারা সরকার গড়ার দৌড়ে নেই। বরং সরকার গড়ার দায় ওই দুই দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে বিজেপির উপরেই চাপিয়ে দেয়। কংগ্রেস ও এনসিপি নেতারা বলেন, বল এখন বিজেপির কোর্টে। তারপরেও বিজেপি সরকার গড়ার ব্যাপারে মনস্থির করতে পারেনি। বৃহস্পতিবার বিজেপি নেতারা রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠন ও তার আইনি দিকগুলি নিয়ে কথা বলেন। তবে রাজ্যপালের কাছে বিজেপি সরকার গঠনের কোনও প্রস্তাব বা দাবি জানায়নি। গত দু’দিন ধরেই শিবসেনা মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা দাবি করে আসছিল। আবার শিবসেনার সঙ্গে বিরোধ না মিটলেও সরকার গড়ার ব্যাপারে বিজেপি আত্মবিশ্বাসী মনোভাব নিয়ে চলছিল। দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও হস্তক্ষেপ করে কোনও মিমাংসা সূত্র বের করতে পারেননি।
এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার শিবসেনা বিজেপির বিরুদ্ধে বিধায়ক কেনাবেচার অভিযোগ তোলে। বলা হয়, বিধায়ক কিনতে বিজেপি টাকার থলি নিয়ে নেমে পড়েছে। এর জন্যই শিবসেনা নেতৃত্ব তাঁদের বিধায়কদের বান্দ্রার পাঁচতারা হোটেলে নিয়ে তোলেন, যাতে কেউ বিজেপির চাপের কাছে বিক্রি না হয়ে যান। শুক্রবার দুপুরে বিধায়ক কেনাবেচার অভিযোগে সরব হয় কংগ্রেসও। দলের রাজ্য নেতা নিতিন রাউতের অভিযোগ, তাদের এক বিধায়ককে ২৫ কোটি টাকা দেওয়ার লোভ দেখানো হয়েছে। তবে বিজেপি এইসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত বিকেলেই বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকার না গড়ে যদি রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পথে হাঁটা হয়, তবে তা মহারাষ্ট্রের মানুষের কাছে অসম্মানজনক হবে। এর কিছু পরেই ফড়নবিস মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি ফের ভোটের দিকে যাবে মহারাষ্ট্র? রাষ্ট্রপতি শাসনই বা কতদিন চলবে? এসবের উত্তর পেতে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে মহারাষ্ট্রবাসীকে।

ধারাবাহিকভাবে পাশে থাকার জন্য The Bengal Story র পাঠকদের ধন্যবাদ। আমরা শুরু করেছি সাবস্ক্রিপশন অফার। নিয়মিত আমাদের সমস্ত খবর এসএমএস এবং ই-মেইল এর মাধ্যমে পাওয়ার জন্য দয়া করে সাবস্ক্রাইব করুন। আমরা যে ধরণের খবর করি, তা আরও ভালোভাবে করতে আপনাদের সাহায্য আমাদের উৎসাহিত করবে।

Login Subscribe

You may also like