কেন্দ্রীয় কৃষি আইন নিয়ে মোদী সরকারের অনড় অবস্থানে জাতীয় পুরস্কার ফিরিয়ে প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত নিলেন পঞ্জাবের ৩০ জনের বেশি ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। প্রতিবাদী প্রাক্তন ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের তালিকায় উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নাম হল পদ্মশ্রী ও অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত কুস্তিগীর করতার সিংহ, অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত বাস্কেটবল খেলোয়াড় সজ্জন সিংহ চিমা, অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত হকি খেলোয়াড় রাজবীর কৌর প্রমুখ। শনিবার, ৫ ডিসেম্বরই তাঁরা দিল্লি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি ভবনের বাইরে তাঁরা পুরস্কার ফিরিয়ে চলে আসবেন বলে খবর।
কৃষকদের ‘দিল্লি চলো’ অভিযান রোধে দিল্লি ও হরিয়ানা পুলিশের ভূমিকায় অসন্তোষ চেপে রাখতে পারেছেন না এই ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা। যেভাবে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও জলকামান ছুড়ে, ব্যারিকেড তুলে, লাঠিচার্জ করে শান্তিপূর্ণ কৃষক বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা হয়েছে, তাতে মর্মাহত তাঁরা। কৃষকদের সমর্থনে এবং কৃষি আইন নিয়ে মোদী সরকারের অনমনীয় অবস্থানের প্রতিবাদ হিসেবে সরকারি পুরস্কার ও খেতাব ফিরিয়ে দিচ্ছেন এই ক্রীড়াবিদরা।
‘৮২ সালের এশিয়ান গেমসে ভারতীয় বাস্কেটবল দলের প্রতিনিধিত্বকারী সজ্জন সিংহ চিমা ৩০ জনের বেশি অলিম্পিক, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় খেতাবজয়ী খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এসেছেন ‘৮০-র মস্কো অলিম্পিক গোল্ড মেডেল বিজয়ী হকি দলের সদস্য গুরমেল সিংহ ও সুরিন্দর সিংহ সোধী প্রমুখ।
৬৩ বছরের চিমা গত মাসেই করোনা সংক্রমিত হয়েছিলেন। সদ্য আইসিইউ থেকে বেরনো প্রাক্তন ক্রীড়াবিদ এখনও সুস্থ নন। কিন্তু গায়ে জ্বর নিয়েই কৃষকদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন তিনি। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, আমরা কৃষকের সন্তান। কৃষকরা বিগত কয়েক মাস ধরে শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। একটি হিংসার ঘটনাও ঘটেনি। তা হলে কেন আন্দোলনকারী কৃষকদের বিরুদ্ধে জলকামান, টিয়ার শেল ব্যবহার করতে হল? কেন তাঁদের দিল্লিতে ঢুকতে দেওয়া হল না? তাঁর কথায়, যদি আমাদের ভাইদের মাথার পাগড়ি পুলিশি প্রতিরোধের কারণে খুলে যায়, তা হলে কেন্দ্রের এই পুরস্কার, সম্মান দিয়ে আমরা কী করব? সম্প্রতি পঞ্জাব পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল হিসেবে অবসর নেওয়া চিমার সংযোজন, ‘আমরা কৃষকদের সমর্থন করব। কেন্দ্রের এই পুরস্কার আমরা রাখেতে চাই না। তাই আমরা ঠিক করেছি ফিরিয়ে দেব।’
আরও পড়ুন: করোনা যুদ্ধে ভারতের পাশে আমেরিকা, পৌঁছল মার্কিন সাহায্য




