রবিবার জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়া দুষ্কৃতী হামলার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় দেশ। মাথা ফেটেছে জেএনইউএসইউ প্রেসিডেন্ট ঐশী ঘোষের। আহত হয়েছেন আরও একাধিক পড়ুয়া এবং অধ্যাপক। ঘটনার তদন্ত করছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। শুক্রবার সন্ধ্যায় তারা একটি সাংবাদিক বৈঠক করে ঘটনায় অভিযুক্তদের ছবি প্রকাশ করে। এরই মাঝে সামনে এসেছে ইংরেজি নিউজ চ্যানেল ইন্ডিয়া টুডের একটি অন্তর্তদন্তের রিপোর্ট। যা গোটা ঘটনায় যোগ করেছে নয়া মাত্রা।
দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে জেএনইউ হিংসায় সরাসরি যুক্ত বাম ছাত্র সংগঠন। ৯ জনের ছবি প্রকাশ করে নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এসএফআই নেত্রী তথা জেএনইউএসইউ প্রেসিডেন্ট ঐশী ঘোষকে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে অনুপস্থিত এবিভিপির নাম। যা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে দিল্লি পুলিশের তদন্তের অভিমুখ নিয়ে। কিন্তু রবিবার সন্ধ্যা থেকে রাত অবধি জেএনইউ দাপিয়ে বেড়ানো মুখ ঢাকা দুষ্কৃতীরা কারা? আলোই বা নেভালো কারা? দিল্লি পুলিশের তরফে সেই উত্তর না পাওয়া গেলেও ইংরেজি নিউজ চ্যানেল ইন্ডিয়া টুডের বিশেষ অন্তর্তদন্তে তার উপর থেকেও পর্দা উঠেছে।
এরই মধ্যে ইংরেজি নিউজ চ্যানেল ইন্ডিয়া টুডে প্রকাশ করেছে জেএনইউ কনফেশন টেপস শীর্ষক একটি অন্তর্তদন্ত রিপোর্ট। যাতে রবিবার তর্কাতিতভাবে দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালানোর দায় সরাসরি স্বীকার করে নিয়েছেন এবিভিপি সদস্যরা।
আরও পড়ুন: ২০১৪ সালের পুনরাবৃত্তি হবে না ২০১৯-এ, বিজেপির সঙ্গ ত্যাগের স্পষ্ট ইঙ্গিত শিবসেনার।
সেই টেপে দেখা গিয়েছে জেএনইউয়ের স্নাতক স্তরের ফ্রেঞ্চ বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র যে নিজেকে এবিভিপি সমর্থক বলে দাবি করেছে, সেই অক্ষত আওয়াস্তিকে বলতে শোনা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ জন এবং বাইরে থেকে ২০ জনকে জোগাড় করে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সদস্যের উপর হামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুষ্কৃতী দৌরাত্ম চালাতে দিল্লি পুলিশ আলো নিভিয়ে সাহায্য করেছিল এবিভিপিকে, গোপন ক্যামেরার সামনে এমনও দাবি করেছে অক্ষত আওয়াস্তি। অক্ষত আওয়াস্তি নামের সেই ছাত্র সাংবাদিকের সামনে এও স্বীকার করে যে, একজন দাড়িওয়ালা ব্যক্তিকে দেখে তাঁর মনে হয়েছিল যে সে কাশ্মীরি। এই অপরাধেই তাঁকে সে মারধর করে। জেএনইউ কনফেশন টেপে উঠে এসেছে একই ক্লাসের রোহিত শাহের নাম। সেও দিল্লি পুলিশের সাহায্যের কথা স্বীকার করেছে।
একই টেপে উঠে এসেছে এক বাম ছাত্র সংগঠনের নেত্রীর কথাও। সেখানে ওই নেত্রী সরাসরি সার্ভার রুমে ঢুকে গোলমাল করার কথা স্বীকার করে নিয়েছে।
এদিকে অল্ট নিউজের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রবিবারে দুষ্কৃতী হামলার সময় মুখ ঢাকা যে মহিলার ছবি উঠে এসেছে, তাঁর পরিচয়। অল্ট নিউজ জানাচ্ছে, ওই পড়ুয়ার নাম কোমল শর্মা। তিনি এবিভিপির একজন সক্রিয় সদস্য। ইন্ডিয়া টুডের জেএনইউ কনফেশন টেপেও ওই মহিলার কথা বলেছিল অক্ষত আওয়াস্তি।
আরও পড়ুন: ৫ বছরে ৩০-৩৫ টি বিমানবন্দর বেসরকারি হাতে, তৈরি মোদীর মাস্টার প্ল্যান, এই দফায় নিলামে ৬ টি বিমানবন্দর
দিল্লি পুলিশ ও ইন্ডিয়া টুডের অন্তর্তদন্ত, এই দুইয়ের মধ্যে কোনও মিল নেই। একদিকে দিল্লি পুলিশের তরফে একতরফাভাবে দায় চাপানোর চেষ্টা হয়েছে বাম ছাত্র সংগঠনের উপর অন্যদিকে রবিবার সন্ধ্যায় দিল্লি পুলিশের সহায়তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাণ্ডব চালানোর কথা স্বীকার করে নিয়েছে নিজেদের এবিভিপি সদস্য বলে দাবি করা ছাত্ররা। এই প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে, সত্যি কোনটা?




