প্রচারে মুখ্যমন্ত্রীর উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরেই রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা ঘটছে। বৃহস্পতিবার শীতলকুচি পরিদর্শন করে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।
কয়েকদিন আগেই রাজ্যপাল ট্যুইট করে জানিয়েছিলেন, তিনি ভোট পরবর্তী হিংসা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করতে যাবেন। রাজ্যপালের এই ট্যুইটের পরেই তাঁর সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছিল রাজ্যের শাসক দল। মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় রাজ্যপালকে চিঠিও দেন। সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সুপারিশ ছাড়া রাজ্যপাল এভাবে কী করে কোথাও যেতে পারেন, প্রস্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন তার জবাবেও রাজ্যপালের তোপ, সংবিধান লঙ্ঘন করছেন মুখ্যমন্ত্রী। একটি সাংবিধানিক পদকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী, মন্তব্য রাজ্যপালের। সেই সঙ্গে তাঁর দাবি, বাংলা ছাড়াও আরও চার রাজ্যে নির্বাচন হয়েছে, কোথাও বাংলার মত রক্তপাত হয়নি।
আরও পড়ুন: দিলীপ: পেট্রলের দাম ১ টাকা ২ টাকা বাড়লে মানুষের কষ্ট হয়না, কারণ মানুষের রোজগার বেড়েছে
আক্ৰমণ সুর চড়িয়ে ধনখড় আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রচারের সময় বলেছেন, সেন্ট্রাল বাহিনী ভোটের পর থাকবে না, তখন দেখে নেব। রাজ্যপালের বিস্ফোরক মন্তব্য, উনি ওনার কথা মত তাই করছেন এখন।
ভোট পরিবর্তী হিংসা নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এদিন হাইকোর্টের সেই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে রাজ্যপাল বলেন, আমি রায় দেখেছি, কোথাও রাজ্যের প্রশংসা করেনি আদালত। সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ এটি প্রচার করছে।
এদিন একটি ট্যুইট করেও রাজ্যকে বিঁধেছেন রাজ্যপাল। ট্যুইটে তিনি লেখেন, এই সঙ্কটময় মুহূর্তে রাজ্যের উচিত রাজ্যপালকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা। তাঁর কটাক্ষ, এটি লোক দেখানো কাজ করার সময় নয়, যেখানে রাজ্যে একের পর এক হিংসার ঘটনা ঘটছে।
আরও পড়ুন: ২০ বছরে পশ্চিবঙ্গই হবে ভারতের ১ নম্বর শিল্পক্ষেত্র, উপনির্বাচনের প্রচারে গিয়ে দাবি মমতার
https://twitter.com/jdhankhar1/status/1392653596517228544?s=1001
রাজ্যপালের এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে তৃণমূল। বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, সংবিধানের সমস্ত রীতিনীতি রাজ্যপাল নিজে হাতে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, এর আগেও রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে দলের পক্ষ থেকে আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে অভিযোগ জানিয়েছি, আমাদের দলনেত্রী বললে আমরা আবারও রাজ্যপালের সংবিধান বহির্ভুত কাজের প্রতিবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্ত হব।
রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে কেন্দ্র রাজ্যের দ্বন্দ্ব তুঙ্গে। রাজ্যপালের এদিনের মন্তব্যে সেই তরজা যে আরও তীব্র হল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।




