তৃতীয় হলেও একমাত্র জামানত বাঁচালেন বিকাশ, রাজ্যে ৪০ কেন্দ্রে বাম প্রার্থীদের জামানত জব্দ, বেনজির বাম বিপর্যয় বাংলায়

বাংলায় নজিরবিহীন বাম বিপর্যয়। একমাত্র যাদবপুরে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বাদে রাজ্যের সবকটি আসনেই জামানত বাজেয়াপ্ত হল সিপিএম সহ বাম প্রার্থীদের। জেতা তো দূরের কথা, একটি আসনেও বামেরা দু’নম্বর স্থানেও থাকতে পারেনি। একমাত্র মালদা দক্ষিণ আসনটি ছেড়ে রেখে, বাকি ৪১ টি আসনেই প্রার্থী দিয়েছিল বামেরা। বিকেল সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের হিসেব অনুযায়ী রাজ্যের ৪০ টি কেন্দ্রেই জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার পথে বাম প্রার্থীরা।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের ছয় ভাগের এক ভাগ পেলে জামানত রক্ষা হয়, যা শতাংশের হিসেবে হয় ১৬ শতাংশের সামান্য বেশি ভোট। রাজ্যে বামেদের মধ্যে যাদবপুরের সিপিএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য পেয়েছেন সর্বোচ্চ ভোট। তিনি পেয়েছেন ২০.৯৯ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ, যাদবপুর কেন্দ্রের বাম প্রার্থী জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন, যদিও বাকি একটি কেন্দ্রেও জামানত রক্ষা করতে পারেনি সিপিএম সহ বামেরা।
বিদায়ী সাংসদ মহম্মদ সেলিম এবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন রায়গঞ্জ কেন্দ্র থেকে। বিকেল সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত তাঁর প্রাপ্ত ভোট শতাংশ ১৩.৭৭। ২০১৪ সালে বামেরা জিতেছিল মুর্শিদাবাদ লোকসভা আসনটিও। এবারও সেখানে প্রার্থী হয়েছিলেন বদরুদ্দোজা খান। তিনি পেয়েছেন ১২.৭৫ শতাংশ ভোট। কলকাতা দক্ষিণ কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী নন্দিনী মুখোপাধ্যায় পেয়েছেন ১১.৩৮ শতাংশ ভোট। দমদম কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী নেপালদেব ভট্টাচার্য পেয়েছেন ১৩.৭৭ শতাংশ ভোট। বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী পেয়েছেন ১১.৩ শতাংশ, বর্ধমান পূর্ব কেন্দ্রে বাম প্রার্থী পেয়েছেন ১২.১২ শতাংশ এবং বারাকপুর কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী গার্গী চট্টোপাধ্যায় পেয়েছেন ১১.৭৬ শতাংশ। শ্রীরামপুরে বাম প্রার্থী পেয়েছেন ১০.৮৭ শতাংশ ভোট।
ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে সিপিএমের হয়ে লড়েছিলেন ফুয়াদ হালিম। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৬.৪৩ শতাংশ। কলকাতা উত্তর কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী পেয়েছেন ৭.৬ শতাংশ ভোট। একদা বাম দূর্গ বলে পরিচিত জলপাইগুড়িতে সিপিএম প্রার্থী পেয়েছেন ৪.৭৬ শতাংশ ভোট। বামেরা সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছে বহরমপুর কেন্দ্রে। সেখানে আরএসপি প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ০.৯৬ শতাংশ ভোট। বাঁকুড়া কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী অমিয় পাত্র এবং বোলপুরের রামচন্দ্র ডোমও ১০ শতাংশের কম ভোট পেয়েছেন।

Comments are closed.