দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: রাজ্যের মহিলাদের জন্য নতুন সহায়তা প্রকল্প অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া রাজ্য সরকারের অফিসিয়াল পোর্টালে শুরু হয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে পয়লা জুন ২০২৬ তারিখে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে। ৩ জুন থেকে ২৮ লক্ষেরও বেশি মহিলার আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা পৌঁছতে শুরু করেছে।
রাজ্য সরকার আবেদনের জন্য ৯০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। তাই যাঁরা এখনও আবেদন করেননি, তাঁদের নির্দিষ্ট সময়ের আগেই তা সম্পূর্ণ করতে হবে। নারী ও শিশু কল্যাণ দফতর এই প্রকল্পের নোডাল দফতর। জেলাশাসক এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
এই প্রকল্পে কী সুবিধা মিলবে ১৯ মে ২০২৬ তারিখে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে যোগ্য মহিলাদের ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি-র মাধ্যমে প্রতি মাসে সরাসরি ৩,০০০ টাকা দেওয়া হবে। এই প্রকল্পে কোনও জাতিভিত্তিক বিভাজন নেই। সাধারণ, এসসি, এসটি, ওবিসি বা আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া, সব শ্রেণির মহিলারাই সমপরিমাণ টাকা পাবেন। পূর্ববর্তী লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে এই বিভাজন ছিল।
আরও পড়ুন: বাঁধ ভেঙে প্লাবিত গোসাবা-সন্দেশখালি, নোনা জলে নষ্ট বিঘার পর বিঘা
গত ১১ মে নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে এই প্রকল্পে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। প্রশাসনিক কর্তাদের অনুমান, প্রায় ২ কোটি মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। যাচাই প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রতি সাত দিন অন্তর সুবিধাভোগীদের তালিকা আপডেট করা হবে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।
কীভাবে অনলাইনে আবেদন করবেন রাজ্য সরকারের সোশ্যাল রেজিস্ট্রি পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদনের সুবিধা রয়েছে। পোর্টালে নির্দেশিত ধাপগুলি নিচে দেওয়া হল।
প্রথমত, socialregistry.wb.gov.in পোর্টালে গিয়ে সিটিজেন বা ফ্যামিলি লগইন অপশনে ক্লিক করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ড্রপডাউন তালিকা থেকে নিজের জেলা বেছে নিয়ে চালু মোবাইল নম্বর দিতে হবে। নম্বরটি আধারের সঙ্গে যুক্ত থাকলে সুবিধা হয়। তৃতীয়ত, ওটিপি (OTP) দিয়ে পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে।
আরও পড়ুন: রাজ্যে অপসংস্কৃতি প্রচারের চেষ্টা বিজেপির! প্রতিবাদে একঝাঁক নাট্যশিল্পী যোগ দিলেন তৃণমূলে
এরপর ফ্যামিলি লেভেল ডেটা কালেকশন (Family Level Data Collection) ফর্ম খুলবে। আবেদনকারীকে প্রথমে পরিবারের প্রধানের তথ্য দিতে হবে। এরপর পরিবারের সদস্য হিসেবে নিজের তথ্য যুক্ত করতে হবে। আধার কার্ডের নাম, জন্মতারিখ, জাতি, আধার নম্বর, ভোটার কার্ডের তথ্য এবং যোগাযোগের নম্বর সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।
তথ্য সেভ করার পর উপলব্ধ প্রকল্পের তালিকা থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার বেছে নিতে হবে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ দিয়ে সম্পূর্ণ ফর্মটি ভালোভাবে খতিয়ে দেখে জমা দিতে হবে। জমা দেওয়ার পর একটি অ্যাপ্লিকেশন আইডি (Application ID) তৈরি হবে, যা পরবর্তীকালে স্ট্যাটাস চেক করার জন্য সেভ করে রাখা জরুরি।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র আবেদন শুরু করার আগে আধার কার্ড, আধার সংযুক্ত একক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ভোটার কার্ড, পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণপত্র এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবি হাতের কাছে রাখতে হবে। পরিবারের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকলে তার নম্বরও প্রয়োজন হবে।
কারা আবেদনের যোগ্য ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী যে সমস্ত মহিলা পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা এবং ভারতীয় নাগরিক, তাঁরা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন। তবে যাঁরা আয়কর দেন, স্থায়ী সরকারি চাকরি করেন, অথবা কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার, পুরসভা, পঞ্চায়েত বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত বেতন বা পেনশন পান, তাঁরা যোগ্য নন। সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে যে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীরা এই সুবিধা পাবেন না।
যাঁরা ইতিমধ্যেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছিলেন, তাঁদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। যাচাইয়ের পর তাঁদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হচ্ছে। নতুন আবেদনকারীরা অ্যাপ্লিকেশন আইডি, আধার বা মোবাইল নম্বর দিয়ে পোর্টাল থেকে স্ট্যাটাস ট্র্যাক করতে পারবেন। অনুমোদন পেলে পরবর্তী পেমেন্ট চক্র থেকে ৩,০০০ টাকা অ্যাকাউন্টে আসা শুরু হবে।
অফিসিয়াল পোর্টাল চালু রয়েছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধারের লিঙ্ক না থাকলে পেমেন্ট আটকে যেতে পারে, তাই ফর্ম জমা দেওয়ার আগে এই বিষয়টি নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন আধিকারিকরা।