দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: গত ২৭ মে ২০২৬ তারিখে রাজ্য সরকার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদনপত্র বা ফর্ম প্রকাশ করেছে। বাংলা, হিন্দি এবং ইংরেজি ভাষায় এই ফর্মটি রাজ্যের সোশ্যাল সিকিউরিটি পোর্টাল থেকে ডাউনলোড করা যাচ্ছে। স্থানীয় সরকারি অফিস থেকেও ফর্মটি সংগ্রহ করা সম্ভব। যাঁরা অনলাইনে আবেদন করতে পারছেন না বা চাইছেন না, তাঁরা আগামী ৯০ দিনের আবেদন সীমার মধ্যে দুয়ারে সরকার ক্যাম্প বা ব্লক অফিসের মাধ্যমে অফলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
১ জুন প্রকল্প চালুর আগে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই আবেদনপত্র প্রকাশ করেন। এরপর ৩ জুন থেকে ২৮ লক্ষেরও বেশি সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ৩,০০০ টাকা ডিবিটি-র (DBT) মাধ্যমে পৌঁছেছে।
কোথা থেকে ফর্ম পিডিএফ ডাউনলোড করবেন অফিসিয়াল পিডিএফ ফর্মটি রাজ্যের সোশ্যাল সিকিউরিটি পোর্টাল socialsecurity.wb.gov.in এ পাওয়া যাচ্ছে। পোর্টালটি খুলে ‘Downloads’ সেকশনে যেতে হবে। এরপর অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম নির্বাচন করে পছন্দের ভাষা (বাংলা, হিন্দি বা ইংরেজি) বেছে নিয়ে পিডিএফটি সেভ করে প্রিন্ট করা যাবে।
আরও পড়ুন: মোহরের টোপ দিয়ে লোপাট ৬ লক্ষ টাকা! বেনিয়াপুকুরের ঘটনার তদন্তে লালবাজার
সরকারি ওয়েবসাইট থেকেই এই ফর্মটি ডাউনলোড করা উচিত। প্রকল্পের নামে তৈরি বিভিন্ন বেসরকারি ওয়েবসাইট ভুয়ো ফর্ম ছড়াচ্ছে, এমনকী টাকার বিনিময় বা ব্যক্তিগত তথ্যও চাইছে। সরকারি ফর্ম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। আবেদন চালুর প্রথম দিন যাঁরা পুরনো ফরম্যাটে ফর্ম জমা দিয়েছিলেন, তাঁদের নতুন ফর্মে আবার আবেদন করতে বলা হয়েছে। তাই পোর্টাল থেকে সবসময় সর্বশেষ ফর্মটিই ডাউনলোড করা শ্রেয়।
ফর্মে কী কী তথ্য দিতে হবে এই ফর্মটি বেশ বিস্তারিত এবং একাধিক অংশ নিয়ে তৈরি। এটি মূলত ব্যক্তিগত তথ্যের চেয়ে পারিবারিক কাঠামোর ওপর বেশি জোর দেয়। ফর্মে পরিবারের প্রধানের তথ্য, সদস্যদের নাম, আবেদনকারীর আধার অনুযায়ী ব্যক্তিগত বিবরণ, সামাজিক ক্যাটাগরি, ভোটার কার্ডের বিবরণ, আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আয়ের শংসাপত্র এবং যোগ্যতার স্ব-ঘোষণাপত্র পূরণ করতে হবে।
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আধার নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ এবং আয়ের ঘোষণাপত্র পূরণ করার সময় সবচেয়ে বেশি ভুল হয়। আধার বা অ্যাকাউন্ট নম্বরের একটি সংখ্যা ভুল হলে আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই মূল নথিপত্র থেকে দেখে নির্ভুলভাবে ফর্মটি পূরণ করতে হবে।
আরও পড়ুন: সপ্তাহের প্রথম দিনে আশঙ্কা বাড়িয়ে লোকাল ট্রেনে কোভিড বিধি উধাও
কী কী নথি যুক্ত করতে হবে পূরণ করা ফর্মের সঙ্গে আবেদনকারীর আধার কার্ড, নিজের নামে থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসবইয়ের প্রথম পাতার কপি (যেখানে অ্যাকাউন্ট নম্বর ও আইএফএসসি কোড স্পষ্টভাবে রয়েছে), ভোটার কার্ড, ঠিকানার প্রমাণপত্র এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবি স্ব-প্রত্যয়িত করে জমা দিতে হবে। পরিবারের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকলে তার বিবরণও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে।
কীভাবে অফলাইনে জমা দেবেন অফলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার দুটি প্রধান মাধ্যম রয়েছে। প্রথমটি হল দুয়ারে সরকার ক্যাম্প। রাজ্য সরকার গ্রাম, পঞ্চায়েত এবং ওয়ার্ড স্তরে এই ক্যাম্পের আয়োজন করে। স্থানীয় পঞ্চায়েত বা পুরসভা থেকে ক্যাম্পের দিনক্ষণ জেনে নিয়ে সেখানে ফর্ম জমা করা যাবে। দ্বিতীয়টি হল সরাসরি ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিস (BDO), মহকুমা শাসকের অফিস (SDO), বা পুরসভা অফিসে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সহ পূরণ করা ফর্ম জমা দেওয়া।
ফর্ম জমা দেওয়ার পর আবেদনকারীকে একটি অ্যাকনলেজমেন্ট রসিদ বা আবেদন নম্বর দেওয়া হয়। এই নম্বরটি দিয়ে পরে অনলাইনে অ্যাপ্লিকেশন আইডি-র মতোই স্ট্যাটাস চেক করা যাবে।
যাচাই প্রক্রিয়ার পর যোগ্য আবেদনকারীদের নাম সুবিধাভোগীদের তালিকায় যুক্ত হয়। প্রতি সাত দিন অন্তর এই তালিকা আপডেট করা হচ্ছে। তাই অফলাইনে আবেদন করতে ইচ্ছুক মহিলাদের ক্যাম্পের ভিড় এড়াতে দ্রুত ফর্ম জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।