নিজস্ব সংবাদদাতা: আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতায় রেড রোড দীর্ঘ ৭ দিন বন্ধ রাখা এবং তার জেরে আমজনতার চরম হয়রানি নিয়ে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। এই মেগা অনুষ্ঠান কেন বিকল্প কোনও খোলা জায়গায় বা ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে করা গেল না, তা নিয়ে সরাসরি রাজ্য সরকারের কাছে জবাব চাইল আদালত। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কলকাতার পুলিশ কমিশনারের বিজ্ঞপ্তির যৌক্তিকতা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রেড রোডে আয়োজিত মূল সরকারি যোগ প্রদর্শনীতে তাঁর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তার আগের দিন অর্থাৎ ২০ জুন কলকাতার আকাশে প্রায় ৩ হাজার ডোন নিয়ে এক বিশেষ মহড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এই মেগা ইভেন্টের প্রস্তুতি ও কঠোর নিরাপত্তার খাতিরেই রেড রোড ৭ দিনের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। আর তাতেই নাকাল হতে হচ্ছে সাধারণ নিত্যযাত্রীদের।
ব্রিগেডে করলে কী ক্ষতি হত? প্রশ্ন বিচারপতির শুনানি চলাকালীন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল (এএজি) বিল্বদল ভট্টাচার্যকে প্রশ্ন করেন, এই অনুষ্ঠান ব্রিগেডে হলে কী ক্ষতি হত? আমি মানছি এটা রাজ্যের সরকারি অনুষ্ঠান এবং এর মধ্যে কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই। কিন্তু তারপরেও বলছি, অনুষ্ঠানটি ব্রিগেডে করা হলে সাধারণ নাগরিকদের ওই রাস্তা ব্যবহারে সমস্যা পোহাতে হত না। একই সঙ্গে আদালতের প্রশ্ন, নিরাপত্তার জন্য গোটা রাস্তা কেন বন্ধ রাখতে হবে, কেন অর্ধেক রাস্তা খোলা রাখা সম্ভব নয়?
আরও পড়ুন: নানুরে তৃণমূল বিধায়কের উদ্যোগে ঘরে ফিরল ৭৫টি ‘বিজেপি’ পরিবার
জবাবে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, যেহেতু ভারতের প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন, তাই প্রোটোকল মেনে তিনি স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজি (SPG) নিরাপত্তা পান। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণেই অনুষ্ঠানটি ব্রিগেডে করা সম্ভব হচ্ছে না। সেনা বাহিনীও এই অনুষ্ঠানের জন্য রেড রোড ব্যবহারেরই অনুমোদন দিয়েছে। এএজি আরও দাবি করেন, রেড রোডের মাত্র ৮০০ মিটার অংশ বন্ধ করা হয়েছে, বাকি সমস্ত সংযোগকারী রাস্তা সাধারণ চলাচলের জন্য খোলাই রয়েছে।
কলকাতার পুলিশ কমিশনারের বিজ্ঞপ্তিতে প্রশ্ন, ৩ সপ্তাহে রিপোর্ট তলব রাজ্যের এই যুক্তিতে অবশ্য পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেনি আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁর পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানান, কলকাতার পুলিশ কমিশনারের জারি করা এই বিজ্ঞপ্তিতে বেশ কিছু খামতি ও প্রশ্ন রয়েছে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে এই মামলার সমস্ত পক্ষকে আদালতে হলফনামা দিয়ে নিজেদের বক্তব্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই মামলায় আগামী দিনে ভারতীয় সেনাবাহিনীকেও যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে কলকাতা পুলিশকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্ট জানিয়েছে, ২১ জুন পর্যন্ত সাধারণ নাগরিকরা যাতে সুষ্ঠুভাবে ও বিকল্প পথ ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছতে পারেন, তা পুলিশ প্রশাসনকেই নিশ্চিত করতে হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থা এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে যাতে যানজট এড়ানো যায়। এছাড়া যোগ দিবস মিটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যাতে ওই রাস্তা সম্পূর্ণভাবে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয়, তাও পুলিশকে আগেভাগেই নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আরও পড়ুন: সরকারি জমি বেদখল, ক্ষোভ প্রকাশ করে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর