দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: ব্যস্ত অফিস টাইমে রেল লাইনে শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ দেখালেন শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার নিত্যযাত্রীদের একাংশ। মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার লাইনের একাধিক স্টেশনে শুরু হওয়া এই রেল অবরোধের জেরে কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে গোটা শাখার ট্রেন চলাচল। মহিলা কামরার সংখ্যা বৃদ্ধির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ঘিরেই এই বিক্ষোভ বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
কোথায় কোথায় অবরোধ
হোটর, দক্ষিণ দুর্গাপুর এবং কল্যাণপুর – মূলত এই তিনটি স্টেশনেই অবরোধ চলে। সকাল থেকেই রেল লাইনে নেমে পড়েন এক দল নিত্যযাত্রী। কেউ লাইনে শুয়ে, কেউ দাঁড়িয়ে – ট্রেন আটকে চলে স্লোগান। অবরোধের জেরে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার ডায়মন্ড হারবার লাইনে একের পর এক লোকাল আটকে পড়ে পরপর স্টেশনে। ফলে অফিস ও কর্মস্থলগামী হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন।
বিক্ষোভের কারণ — মহিলা কামরা বৃদ্ধি
বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ একটিই। ১২ কামরার লোকাল ট্রেনগুলিতে মহিলা যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত কামরার সংখ্যা ২ থেকে বাড়িয়ে ৩ করা হয়েছে। ফলে সাধারণ ও পুরুষ যাত্রীদের জন্য বরাদ্দ কামরা কমেছে একটি। তাঁদের বক্তব্য, ডায়মন্ড হারবার লাইনে গত কয়েক বছরে যাত্রী সংখ্যা বাড়লেও অফিস টাইমে ট্রেনের সংখ্যা সেই অনুপাতে বাড়ানো হয়নি।
আরও পড়ুন: মুক্তি পেয়েই স্বমহিমায় ফিরহাদ হাকিম, করলেন Talk To Kmc
দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়েছে
আন্দোলনকারী যাত্রীদের দাবি, অফিস টাইমে এমনিতেই উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়। কামরা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। গত কয়েক দিনে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার সংখ্যাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
পরিস্থিতি সামাল দিতে নামল GRP-RPF
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন রেল পুলিশ (GRP) এবং রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF)-এর কর্মীরা। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তুলে স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল ফেরাতে চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা। তবে দীর্ঘ সময় ধরে অবরোধ চলায় বহু যাত্রী যথাসময়ে অফিস বা কর্মস্থলে পৌঁছতে পারেননি। অবরোধের আঁচ সকাল গড়াতেই ছড়িয়ে পড়ে ডায়মন্ড হারবার লাইনের অন্যান্য স্টেশনেও। পরবর্তী লোকাল কখন ছাড়বে, তা জানতে স্টেশনে স্টেশনে ভিড় জমান যাত্রীরা।
রেলের তরফে এখনও পর্যন্ত মহিলা কামরা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কোনও ইঙ্গিত মেলেনি। তবে বিক্ষোভকারীদের একটাই দাবি – পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে হলে ডায়মন্ড হারবার শাখায় ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি।