২০১৯ এর লোকসভা ভোটের ফলাফলের নিরিখে উত্তরের পাহাড় এবং জঙ্গলমহলে বিজেপি বিপুল ভোটে শাসক দল তৃণমূলের থেকে এগিয়ে ছিল।
২০১৯ এর লোকসভার বিধানসভা ভিত্তিক ফলাফলের নিরিখে উত্তরবঙ্গের প্রায় বেশিরভাগ বিধানসভায় লিড ছিল বিজেপির। একুশের মহাযুদ্ধে বাংলা জয়ের ক্ষেত্রেও উত্তরবঙ্গের আসনগুলির দিকে বিশেষ নজর দিয়েছিল গেরুয়া শিবির।
২ মে বাংলায় বিপুল ভোটে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় ফেরে তৃণমূল। কিন্তু সারা বাংলার সবুজ ঝড়ের প্রভাব কতখানি গিয়ে পড়েছে উত্তরবঙ্গে? আসুন দেখে নেওয়া যাক ২০১৯ এর লোকসভা ভোটের নিরিখে একুশে কোন কোন আসনে তৃণমূল ফিরে পেল?
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক, কেন্দ্রের পাশে তৃণমূল, বললেন অভিষেক
জলপাইগুড়ি
জলপাইগুড়ি জেলায় সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র।
ধূপগুড়ি কেন্দ্রে ২০১৯ সালে এগিয়ে ছিল বিজেপি, একুশেও এই আসনে বিজেপি জিতেছে।
ময়নাগুড়ি কেন্দ্রে ২০১৯ সালে ১৪ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি। একুশের ভোটেও ময়নাগুড়িতে গেরুয়া শিবির তাদের সাফল্য ধরে রেখেছে। বিজেপি প্রার্থী কৌশিক রায় এই কেন্দ্র থেকে জিতেছেন।
২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে জলপাইগুড়ি সদর আসনে বিজেপি ৪০ হাজার ভোটের ব্যবধানে তৃণমূলের থেকে এগিয়ে ছিল। কিন্তু একুশের বিধানসভায় এই আসনটি বিজেপির থেকে ছিনিয়ে নিল তৃণমূল। তৃণমূল প্রার্থী ডাক্তার প্রদীপ বর্মা এই কেন্দ্রে জিতেছেন।
এই জেলার রাজগঞ্জ আসনটিতে উনিশে ৪ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল তৃণমূল। তবে একুশের বিধানসভা ভোটে বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণা কল্যাণী এই আসন থেকে জয়লাভ করেন।
ডাবগ্রাম ফুলবাড়ী কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী উনিশের লোকসভায় ৮৬ হাজার ভোটে এগিয়েছিলেন। একুশের নির্বাচনেও সাফল্য ধরে রাখল বিজেপি। বিজেপি প্রার্থী শিখা চ্যাটার্জি রাজ্যের মন্ত্রী তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেবকে পরাজিত করেন।
জলপাইগুড়ির মাল আসনে উনিশে বিজেপি প্রার্থী ২৪ হাজার ভোটে এগিয়েছিলেন। এই আসন একুশের ভোটে তৃণমূল পুনরুদ্ধার করল। বুলু চিক বরাইক জিতেছেন।
নাগরাকাটায় লোকসভা ভোটে বিজেপি প্রার্থী জন বার্লা ৫০ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন। একুশের লোকসভা ভোটেও এই কেন্দ্রে বিজেপি জয়যাত্রা ধরে রেখেছে। বিজেপি প্রার্থী পুনা ভেঙরা জিতেছেন।
জলপাইগুড়ির সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একুশে দুটি আসন পুনরুদ্ধার করল তৃণমূল। তবে হেরে গেলেন জেলা থেকে একমাত্র মন্ত্রী গৌতম দেব।
দার্জিলিং
দার্জিলিং জেলার ৫ টি কেন্দ্রের মধ্যে দার্জিলিং বিধানসভা, কার্শিয়াং, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, শিলিগুড়ি, ফাঁসিদেওয়া পাঁচটি কেন্দ্রেই উনিশের লোকসভায় বিজেপি বিপুল ভোটে এগিয়ে ছিল।
একুশের বিধানসভা ভোটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, দার্জিলিং বিধানসভা, কার্শিয়াং, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, শিলিগুড়ি, ফাঁসিদেওয়া পাঁচটি কেন্দ্রেই বিজেপি তাদের লোকসভা ভোটের সাফল্য ধরে রেখেছে।
উল্লেখ্য পাহাড়ে তৃণমূল গুরুংদের যে তিনটি আসন ছেড়েছিল, তিনটিতেই তাঁরা পরাজিত।
কোচবিহার
কোচবিহার জেলায় ৯টি আসন। এই জেলার মাথাভাঙ্গা, কোচবিহার উত্তর, কোচবিহার দক্ষিণ, দিনহাটা, তুফানগঞ্জ, মেখলিগঞ্জ কেন্দ্রগুলিতে ২০১৯ এ এগিয়ে ছিল বিজেপি।
শীতলকুচি,সিতাই, কেন্দ্র দুটিতে এগিয়ে ছিল তৃণমূল।
একুশের লোকসভা ভোটে ৯টি আসনের মধ্যে আটটি আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি।
মেখলিগঞ্জ আসনটিতে উনিশে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও একুশে এই আসনটিতে জয় পায় তৃণমূল।
কোচবিহার জেলায় তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবং উদয়ন গুহ। দুজনেই হেরেছেন। হেরেছেন শীতলকুচির ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোন কল ভাইরাল হওয়া পার্থপ্রতিম রায়। তবে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গিয়ে জিতেছেন মিহির গোস্বামী। বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকও জয়লাভ করেছেন।
আলিপুরদুয়ার
এই জেলায় ৫টি বিধানসভা কেন্দ্র। ২০১৯ এর লোকসভা ভোটের নিরিখে আলিপুরদুয়ার বিধানসভা,কালচিনি, ফালাকাটা, মাদারিহাট, কুমারগ্রাম সব কটি কেন্দ্রেই বিজেপি এগিয়ে ছিল বিপুল ব্যবধানে।
একুশের বিধানসভা ভোটেও এই জেলা থেকে বিজেপি সবকটি আসনে জয়লাভ করেছে।


