ভারতের মাত্র ৯ বিত্তবানের সম্পদ ৫০ শতাংশ মানুষের সম্পদের সমান, মুকেশ আম্বানীর সম্পদ দেশের মোট স্বাস্থ্য বাজেটের বেশি

ভারতের সবচেয়ে বিত্তবান মাত্র ৯ জন ব্যক্তির মোট সম্পদের পরিমাণ দেশের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ৫০ শতাংশ মানুষের মোট সম্পদের সমান। শুধু তাই নয়, দেশের সবচেয়ে বড়লোক ১০ শতাংশ মানুষের হাতে রয়েছে ভারতের মোট সম্পদের ৭৭.৪ শতাংশ। আর এর মধ্যে এক শতাংশ মানুষের হাতেই রয়েছে দেশের মোট সম্পদের ৫১.৫৩ শতাংশ সম্পদ! অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় উঠে এল এই তথ্য, যা প্রমাণ করে, বড়লোক আরও বিত্তশালী হয়েছে, গরিব হয়েছে আরও গরিব।
অক্সফাম রিপোর্ট বলছে, শেষ এক বছরে ভারতে ১৮ জন ধনকুবের যুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে ১১৯ জন ভারতীয় ধনকুবেরের মোট অর্থ পরিমাণ ২৮ লক্ষ কোটি টাকা। ওই ধনকুবেরদের ০.৫ শতাংশ ট্যাক্স বাড়ালে দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ বাড়াতে পারবে সরকার।
কেন্দ্র ও রাজ্য মিলিয়ে চিকিৎসা ক্ষেত্র, জনস্বাস্থ্য ও জল সরবরাহে ব্যয় হয় ২ লক্ষ ৮ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা, যা দেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি মুকেশ আম্বানির মোট সম্পদের (২.৮ লক্ষ কোটি) চেয়েও কম।
অক্সফামের এই রিপোর্ট বলছে, ভারতের সবচেয়ে বিত্তবান ব্যক্তিদের রোজগার আরও বেড়েছে। ২০১৮ সালে তাঁদের এই বৃদ্ধির পরিমাণ প্রতিদিন ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। আর তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বিত্তবান এক শতাংশ মানুষের সম্পদ বেড়েছে ৩৯ শতাংশ।
এই সমীক্ষায় বলা হয়েছে, দেশের ১০ শতাংশ গরিব অর্থাৎ, প্রায় ১৩ কোটি ৬ লক্ষ মানুষ ঋণভারে জর্জরিত। এই মানুষরা বিগত ২০০৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আরও গরিব হয়েছে। ভারতের মোট সম্পদের মাত্র ৪.৮ শতাংশ রয়েছে ৬০ শতাংশ মানুষের হাতে। দেশের সবচেয়ে বিত্তবান ৯ জনের হাতে যে পরিমাণ সম্পদ আছে, তা ৫০ শতাংশ গরিব মানুষের সমান। অক্সফাম রিপোর্ট দাবি করেছে, ২০১৮ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে, প্রতিদিন গড়ে ৭০ জন করে ধনকুবের তৈরি হবে এদেশে। এই অর্থনৈতিক অসাম্য ভারতের গণতন্ত্রের পক্ষে এক অশুভ সংকেত বলে মনে করছে অক্সফাম।
এই সমীক্ষায় উঠে এসেছে, মহিলা ও শিশুরা অর্থনৈতিক অসাম্যে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। তবে শুধু ভারত নয়, বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেরই একই ছবি। যেখানে বিত্তশালীরা ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে নিজেদের অফুরন্ত সম্পদ তৈরি করছে, সেখানে লক্ষ লক্ষ কন্যা সন্তান উপযুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থার অভাবে ধুঁকছে, লক্ষ লক্ষ মহিলার মৃত্যু হচ্ছে মাতৃত্বকালীন অবস্থায়।
গোটা বিশ্বের নিরিখে দেশে বিত্তবান মানুষদের সম্পদ প্রতিদিন ১২ শতাংশ হিসেবে বেড়েছে। আর এই সময়ের মধ্যে বিশ্বের গরিব মানুষদের সম্পদ কমেছে ১১ শতাংশ।
গোটা বিশ্বের নিরিখেও বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য দেওয়া হয়েছে রিপোর্টে। এখন বিশ্বের সবচেয়ে বিত্তবান ব্যক্তির নাম জেফ বেজস। অ্যামাজন সংস্থার মালিক, জেফ বেজসের সম্পদ বেড়েছে ১১২ বিলিয়ন ডলার। এই বৃদ্ধির মাত্র এক শতাংশ ১১৫ মিলিয়ন মানুষের দেশ ইথপিয়ার মোট সম্পদের চেয়েও বেশি।

Comments
Loading...