বুধবারই এক ফরাসি তদন্তমূলক পত্রিকা জানিয়েছিল, ভারত-ফ্রান্স রাফাল যুদ্ধ বিমান চুক্তিতে অনিল আম্বানীর সংস্থার সাথে চুক্তি করা ছিল বাধ্যতামূলক, এই মর্মে তারা নথি পেয়েছে ফরাসি যুদ্ধ বিমান নির্মাণকারী সংস্থা ড্যাসল্ট এর কাছ থেকে। বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদনকে হাতিয়ার করে নতুন করে ময়দানে নামলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘দুর্নীতিগ্রস্থ’ এবং ‘দেশের নয়, অনিল আম্বানীর প্রধানমন্ত্রী’ বলেও এদিন কটাক্ষ করেছেন রাহুল। এদিন এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘এটা একদম পরিষ্কার যে, আমাদের প্রধানমন্ত্রীই দুর্নীতিগ্রস্থ। এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়বেন বলে ভোটের সময় তাঁর করা প্রচারও ছিল মিথ্যা।’ প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি এদিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমণকেও এক হাত নেন রাহুল। ফ্রান্স সফররত প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, গোটা বিষয় সামাল দিতে (কভার আপ) তিনি ফ্রান্সে গেছেন।
রাহুল বলেন, ‘ফ্রান্স সফরে গিয়ে ড্যাসল্ট কর্তাদের সাথেও দেখা করবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ফরাসি ওই সংস্থাকে চাপ দেওয়া হবে কেন্দ্রীয় সরকারের সুরে সুর মিলিয়ে কথা বলার জন্য, যাতে গোটা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া যায়।’ রাহুলের মতে, ‘চাপে পড়ে এই কথায় রাজিও হয়ে যেতে পারে ড্যাসল্ট, যেহেতু এত হাজার কোটি টাকার বরাত পেয়েছে তারা। এবং দু’তরফের বয়ান যাতে সংবাদমাধ্যমের সামনে একই থাকে, তার খসড়া ঠিক করতেই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই ফ্রান্স সফর।’
রাহুলের কথায়, ‘যতই গোটা বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হোক, আস্তে আস্তে সব প্রকাশ্যে আসছে। ফাঁস হওয়া ড্যাসল্ট এর নথিও সেই কথাই বলছে।’ ঘটনার তদন্তের দাবি এদিনও জানিয়েছেন রাহুল।
উল্লেখ্য, বুধবারই রাফাল চুক্তি নিয়ে নয়া বোমা ফাটায় ফরাসি তদন্তমূলক জার্নাল ‘মিডিয়াপার্ট’। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এনডি টিভি’র রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘মিডিয়াপার্ট’ নামের ওই ফরাসি জার্নালটি রাফাল চুক্তি নিয়ে একটি আর্টকেল লিখেছে। সেখানে চুক্তি সংক্রান্ত এবং রাফাল প্রস্তুতকারী ড্যাসল্টের কিছু গোপন নথির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যাতে বলা হয়েছে, ওই নথিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ভারতের থেকে এই যুদ্ধ বিমানের বরাত পেতে রিলায়েন্সের সাথে চুক্তি করার শর্তটি ছিল বাধ্যতামূলক। অন্যথায় এই চুক্তি করা যেত না। ‘মিডিয়াপার্ট’ এর আর্টিকেলে দাবি করা হয়েছে, তারা ড্যাসল্টের যে নথি পেয়েছে তাতে নাকি এক ড্যাসল্ট কর্তা স্পষ্ট করে লিখেছেন, ভারতের সাথে যৌথ উদ্যোগে এই যুদ্ধ বিমান বানাতে হলে ও ভারতে এর আধুনিকীকরণ ও রক্ষণাবেক্ষণসহ ভবিষ্যতে বানিজ্য করতে হলে, সংশ্লিষ্ট ভারতীয় সংস্থার সাথে মূল চুক্তির অফসেট ক্লজ এর আওতায় অংশীদারিত্বের চুক্তি করতে হবে ড্যাসল্টকে। মাস খানেক আগে অনেকটা একই দাবি করেছিলেন প্রাক্তন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রসোঁয়া ওলাদ। তিনি দাবি করেন, ভারতের সাথে রাফাল চুক্তির সময় ‘অফসেট ক্লজ’ এর আওতায় ড্যাসল্টের সাথে রিলায়েন্স ডিফেন্সের যে অংশীদারিত্বের চুক্তি হয়েছিল, তাতে ফরাসি সরকার কোনও হস্তক্ষেপ করেনি। কিন্তু ভারত সরকারের তরফেই ড্যাসল্ট এর কাছে শুধু মাত্র অনিল আম্বানীর সংস্থার নামই প্রস্তাব করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার নয়া তথ্য সামনে আসার পর, ড্যাসল্টের তরফে এক বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, তারা নিজেরা স্বাধীনভাবে তাদের বাণিজ্যিক অংশিদার হিসাবে অনিল আম্বানীর সংস্থাকে বেছে নিয়েছিল। কোনও চাপ তাদের দেওয়া হয়নি। তবে ‘মিডিয়াপার্ট’ এখনও দাবি করছে, তারা যা বলেছে তা যথেষ্ট প্রমাণ হাতে নিয়ে লিখেছে, যার থেকে প্রমাণিত হয় প্রাক্তন ফরাসী প্রেসিডেন্ট ওলাদের দাবিই ঠিক।

You may also like