দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে ইলেকট্রিক গাড়ির বাজারে প্রতিযোগিতার মুখে নিজেদের কৌশল নতুন করে সাজাচ্ছে জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার (JLR)। সংস্থার সাম্প্রতিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দিনে তাদের নতুন ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম প্রাইসিং বা উচ্চমূল্যের নীতি বজায় রাখা হবে। বিলাসবহুল এসইউভি এবং পারফরম্যান্স ওরিয়েন্টেড গাড়ির বাজারে নিজেদের ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং মুনাফার হার অক্ষুণ্ণ রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে টাটা মোটরস মালিকানাধীন এই সংস্থাটি।
উচ্চমূল্যের নীতি কেন? ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারি প্রযুক্তি এবং উন্নত সফটওয়্যারের পেছনে বিপুল বিনিয়োগ করছে জেএলআর। এই উচ্চ প্রযুক্তির খরচ সামাল দিতে এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসার টেকসই বৃদ্ধির জন্য প্রিমিয়াম সেগমেন্টকে বেছে নিয়েছে তারা। সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের মতে, ক্রেতারা কেবল গাড়ি কিনছেন না, বরং তারা ব্র্যান্ডের বিলাসিতা এবং প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তাই সস্তা বা গণ-বাজারের ইভির বদলে নিজস্ব ব্র্যান্ডের এক্সক্লুসিভিটি ধরে রাখাই মূল লক্ষ্য।
নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার জাগুয়ারের পরবর্তী প্রজন্মের ইলেকট্রিক গাড়িগুলো নতুন আর্কিটেকচারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে। এতে থাকবে অত্যন্ত উন্নত ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং স্বায়ত্তশাসিত ড্রাইভিং ফিচার। এই উদ্ভাবনগুলো গাড়ির উৎপাদন খরচ বাড়ালেও, গাড়ির প্রিমিয়াম ইমেজ ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন: ছিল ‘Twitter’ হল ‘Titter’ ; এবার সদর দফতরের বোর্ড থেকে ‘‘W’কেই সরিয়ে দিলেন এলন মাস্ক
বৈশ্বিক ইভি বাজারে জেএলআর-এর অবস্থান বর্তমানে ইভি বাজারে হুন্ডাই, টেসলা এবং বিভিন্ন চীনা সংস্থা তাদের সাশ্রয়ী মডেল দিয়ে আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করছে। সেখানে জেএলআর তাদের ‘মডার্ন লাক্সারি’ দর্শনের ওপর ভিত্তি করে কাজ করবে। প্রিমিয়াম প্রাইসিংয়ের মাধ্যমে তারা বিশ্ববাজারে বিশেষ করে ইউরোপ এবং আমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলোতে এক বিশেষ শ্রেণির গ্রাহককে আকৃষ্ট করতে চাইছে। এতে কেবল বিক্রয় বৃদ্ধি নয়, বরং ব্র্যান্ডের লভ্যাংশ বা প্রফিট মার্জিন বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
জেএলআর-এর এই সিদ্ধান্ত ভারতের ইলেকট্রিক গাড়ি প্রেমীদের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে টাটা মোটরসের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে, এই উন্নত প্রযুক্তির কতখানি সুবিধা ভারতীয় বাজারেও পৌঁছে দেওয়া সম্ভব, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তাদের এই নতুন মডেলগুলো বাজারে এলে বিলাসবহুল ইলেকট্রিক গাড়ির সংজ্ঞা অনেকটাই বদলে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: ব্লু টিকের জন্য প্রতিমাসে গুনতে হবে টাকা; ট্যুইটার কিনেই নিয়ম বদলের পথে মাস্ক




