মুখ্যমন্ত্রীর কাটমানি বার্তা, জেলায় জেলায় দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের বাড়ি ঘেরাও, গ্রেফতার ১

মঙ্গলবারই নজরুল মঞ্চে দলীয় কাউন্সিলারদের বৈঠকে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছিলেন, সরকারি প্রকল্পের টাকা থেকে কাটমানি নিলে, তোলাবাজি করলে দলে জায়গা হবে না। এরকম প্রচুর অভিযোগ পেয়েছেন তিনি, তাঁর হুঁশিয়ারি ছিল, যাঁরা টাকা নিয়েছেন সাধারণ মানুষকে ফেরত দিয়ে আসুন।
এর ২৪ ঘন্টা পেরোতে না পেরোতেই বুধবার জেলায় জেলায় সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ আছড়ে পড়ল দুর্নীতিতে অভিযুক্ত একাধিক তৃণমূল নেতার বাড়িতে। মালদহের রতুয়ায় তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত নেতাকে সরকারি প্রকল্প থেকে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করল পুলিশ। কাটমানির টাকা ফেরত চেয়ে বীরভূমের ইলামবাজারে দুই তৃণমূল নেতার বাড়ি ঘেরাও করেন স্থানীয় লোকজন। এদিন সন্ধ্যায় এই ঘটনার আঁচ পড়ে বাঁকুড়া জেলায়ও। বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার বাড়ি ঘেরাও করেন বিজেপি কর্মীরা।
লোকসভা ভোটের বিপর্যয়ের পর থেকেই বিভিন্ন জেলার নিচুতলার নেতা থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত সদস্য, এমনকী একাধিক বিধায়কের বিরুদ্ধে পর্যন্ত সরকারি প্রকল্পের টাকা থেকে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ জমা পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। শুধু তাই নয়, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত একাধিক নেতা ভোটের সময় বিজেপির কাছ থেকে সরাসরি টাকা নিয়েছেন বলেও মারাত্মক অভিযোগ পেয়েছেন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। বারবার দলীয় স্তরে বার্তা দিয়ে অবশেষে মঙ্গলবার নজরুল মঞ্চের সমাবেশে প্রকাশ্যে মুখ খোলেন তৃণমূল নেত্রী। এমনকী কেউ কেউ তোলাবাজি করে তা থেকে বাঁচতে বিজেপি শিবিরে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। কিছুদিন আগেই অভিযোগ জানানোর জন্য বিশেষ হেল্প লাইন চালু করার কথা ঘোষণা করেছিলেন মমতা। বুধবার সকাল থেকেই  তাঁর এই কাটমানি বার্তার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হল রাজ্যজুড়ে। তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ মনে করছেন, এই ঘটনা দল সম্পর্কে মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা দেবে।

Comments are closed.