কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন, শিক্ষার হার থেকে গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণ, একাধিক বিষয়ে দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে পশ্চমবঙ্গ। এমনটাই জানাচ্ছে কেন্দ্রের অর্থনৈতিক সমীক্ষার রিপোর্ট। বহু ক্ষেত্রেই গুজরাত, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যকে পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছে বাংলা।
বৃহস্পতিবার সংসদে পেশ হওয়া অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য বলছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বে গ্রামীণ বাংলার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান শহরের থেকে অনেকটাই বেড়েছে। বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের কর্মহীনতার হার ৪.৬ শতাংশ, এর মধ্যে গ্রামীণ বেকারত্বের হার ৩.৮ শতাংশ এবং শহরের বেকারত্বের হার ৬.৪ শতাংশ। অন্যদিকে, উন্নত অর্থনীতি সমৃদ্ধ গুজরাতের কর্মহীনতার হার ৪.৮ শতাংশ এবং গ্রামীণ বেকারত্ব ৫.২ শতাংশ বলে কেন্দ্রের রিপোর্টে প্রকাশ।
ধান ও পাট উৎপাদনেও প্রথম স্থান অধিকার করেছে পশ্চিমবঙ্গ। অন্যান্য বহু রাজ্যকে পেছনে ফেলে পশ্চিমবঙ্গের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির হার এখন ১৬ শতাংশ। রিপোর্টে প্রকাশ, ২০১৭ আর্থিক বছরে যেখানে পশ্চিমবঙ্গের ধান উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৫ কোটি টন, সেখানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করা পঞ্জাব ও উত্তর প্রদেশ ধান উৎপাদনে ১৩ কোটি টনেই আটকে গিয়েছে সংশ্লিষ্ট আর্থিক বছরে।
এছাড়াও, জাতীয় অর্থনীতিতে মহিলাদের যোগদান, বিভিন্ন প্রকল্প ও আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মাধ্যমে গৃহবধূদের যোগদান দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করেছে। আর এই ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ কাজ করেছে পশ্চিমবঙ্গ। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় সংস্থার এক রিপোর্ট উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, যে রাজ্যগুলিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ শতাংশের নীচে নেমে গিয়েছে তার মধ্যে অগ্রগণ্য পশ্চিমবঙ্গ। এছাড়া স্কুল শিক্ষার হার,পড়ুয়া ও শিক্ষক-শিক্ষিকার অনুপাত, স্কুলছুট ইত্যাদি নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ সাফল্যের তারিফ করা হয়েছে। গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণেও দেশের প্রথম ১০টি রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ রয়েছে উপরের সারিতেই।
আরও পড়ুন: সব কিছুতেই GST, ভ্যাকসিনে নয় কেন? প্রশ্ন দিলীপ ঘোষের