দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: ব্রিটেনের রাজনীতিতে এক বিরাট রদবদল ঘটে গেল। মেকারফিল্ড পার্লামেন্টারি উপনির্বাচনে লেবার পার্টির হেভিওয়েট নেতা এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের বিদায়ী মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এক রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এই ঐতিহাসিক জয়ের ফলে ৯ বছর পর আবারও ওয়েস্টমিনস্টারে (ব্রিটিশ পার্লামেন্ট) ফিরছেন তিনি। তবে বার্নহ্যামের এই বিপুল জয় নিজের দলের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের উপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। ব্রিটিশ রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন, এবার স্টারমারকে সরিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার জন্য লেবার পার্টির অন্দরেই বড়সড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারেন বার্নহ্যাম।
রেকর্ড ভোট পেয়ে জয়ী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
ব্রিটেনের উত্তর-পশ্চিমের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসন মেকারফিল্ডের উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রায় ৫৫ শতাংশ (৫৪.৮%) ভোট পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। তিনি মোট ২৪,৯২৭টি ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কট্টর অভিবাসন বিরোধী দল ‘রিফর্ম ইউকে’-র রবার্ট কেনিয়ন পেয়েছেন ৩৪.৫ শতাংশ (১৫,৬৯৬টি) ভোট। বার্নহ্যাম তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৯,২৩১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন, যা ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ মার্জিন। এই উপনির্বাচনে প্রায় ৫৯ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন, যা গত ৭ বছরের মধ্যে যেকোনো উপনির্বাচনের তুলনায় সর্বোচ্চ রেকর্ড টার্নআউট।
আরও পড়ুন: NASA Astronaut Anil Menon: ৮ মাসের জন্য মহাকাশে পাড়ি দিচ্ছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী অনিল মেনন
ভরাডুবি কনজারভেটিভ এবং লিব ডেমোক্র্যাটদের মেকারফিল্ডের এই লড়াইয়ে রিফর্ম ইউকে দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখলেও ব্রিটেনের অন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির চূড়ান্ত ভরাডুবি হয়েছে। দেশের একসময়ের শাসক দল কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী মাইকেল উইনস্টানলি পেয়েছেন মাত্র ২.২ শতাংশ ভোট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উপনির্বাচনের ইতিহাসে এটি কনজারভেটিভ বা টোরি দলের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ভোট পাওয়ার রেকর্ড। অন্যদিকে গ্রিন পার্টি ০.৭ শতাংশ এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা মাত্র ০.৪ শতাংশ ভোট পাওয়ায় আইন অনুযায়ী তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নতুন দল ‘রিস্টোর ব্রিটেন’ এই প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৬.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের দাবি? লেবার পার্টি মেকারফিল্ডে জিতলেও এই ফল প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত মে মাসে স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টি ১,২০০-র বেশি কাউন্সিলর পদ হারানোর পর থেকেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে দলের অন্দরে অসন্তোষ বাড়ছিল। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আমেরিকার ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনের বিতর্কিত নিয়োগ। দলের একাংশ মনে করছে, স্টারমারের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। অন্যদিকে বার্নহ্যামের এই অভাবনীয় জয়ের পর লেবার পার্টির সাংসদ ও কর্মীদের একাংশ তাঁকে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছেন।ফল প্রকাশের পর এক আবেগঘন বক্তৃতায় অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, এই জয় ব্রিটেনের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো একটি মুহূর্ত। দেশের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তিনি আরও যোগ করেন, এটি লেবার পার্টির জন্য দেশের রূপরেখা বদলে দেওয়ার শেষ সুযোগ, আর কোনো দ্বিতীয় সুযোগ পাওয়া যাবে না।
এদিকে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তড়িঘড়ি বার্নহ্যামকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি কোনো নেতৃত্ব বদলের লড়াইয়ের মুখে পিছু হটবেন না এবং নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লন্ডনের বাইরে থাকা সাধারণ কর্মজীবী মানুষের কাছে বার্নহ্যাম অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ হওয়ায় আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ব্রিটেনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের দখল নিয়ে এক চরম নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে।
আরও পড়ুন: Gulf of Oman Attack: ওমান উপকূলে মার্কিন হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু, কড়া প্রতিবাদ ভারতের




