দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ইজরায়েল এবং হামাস সংঘাতের মধ্যেই এক নতুন এবং তাৎপর্যপূর্ণ মোড়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার আমেরিকার সঙ্গে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির পথে এগোচ্ছে ইরান। ১৬ জুনের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী অনুযায়ী, ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে।
আলোচনার কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালী
বিশ্বের মোট খনিজ তেলের একটি বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। বিগত কয়েক মাস ধরে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আমেরিকা চাইছে যে কোনও মূল্যে এই জলপথকে সুরক্ষিত রাখতে। অন্যদিকে, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির কথা মাথায় রেখে ইরানও বড় কোনও সংঘাতে জড়ানোর বদলে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে। দুই দেশই তাই যুদ্ধের আবহে একটি অস্থায়ী চুক্তির মাধ্যমে উত্তেজনা কমাতে চাইছে।
ইজরায়েলের অবস্থান এবং উদ্বেগ
ইরান এবং আমেরিকার এই সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির জল্পনায় স্বভাবতই উদ্বিগ্ন ইজরায়েল। ইজরায়েল সরকারের শীর্ষ আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, ইরানের উপর থেকে চাপ কমালে তারা সেই সুযোগে নিজেদের সামরিক কর্মসূচি আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। তবে মার্কিন প্রশাসন ইজরায়েলকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে যে, এই চুক্তি শুধুমাত্র সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমিত করার লক্ষ্যেই করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Gulf of Oman Attack: ওমান উপকূলে মার্কিন হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু, কড়া প্রতিবাদ ভারতের
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সত্যিই ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে এই শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় স্বস্তি নিয়ে আসবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গোটা বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ পেতে এখনও বেশ কিছুটা সময় লাগবে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।