হাসপাতালের লম্বা বিল মেটাতে গিয়ে হিমসিম খেয়েছেন প্রায় সবাই। সাধারণ মানুষ যাতে পরিবারের সদস্যদের বিনা খরচে সু-চিকিৎসা করাতে পারেন, সে কথা মাথায় রেখে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। রাজনৈতিক মহল বলছে, তৃতীয়বার সরকার গড়ার নেপথ্যে স্বাস্থ্য সাথীই হয়ে উঠেছিল মমতার প্রধানতম অস্ত্র।
২০১৬ সাল। পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় এলো তৃণমূল সরকার। জয়ের খতিয়ান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। যা ২০১৮ সাল থেকে রাজ্য সরকার দ্বারা নিঃশুল্ক স্বাস্থ্য বীমা যোজনা রূপে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পটিকে বাস্তবায়িত রূপ দেওয়া হয়। প্রত্যেক রাজ্যবাসীকে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের আওতায় আনার জন্য ২০২০ র নভেম্বরে নতুনভাবে কার্যকর হয় এই প্রকল্প।
স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প কী?
আরও পড়ুন: সংস্কারের পর চাকলায় মন্দিরের উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী; তীর্থস্থানে কাজের খতিয়ান তুলে ধরলেন
পশ্চিমবঙ্গে অনেক মানুষ আছেন যাঁরা অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা যান। এইসব মানুষের কথা মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সম্পূর্ণ বিনা খরচায় চিকিৎসার জন্য চালু করে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প। এর মাধ্যমে মানুষ যে কোনো সরকারি হাসপাতাল বা বেসরকারি নার্সিংহোমে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা করাতে পারেন। আগে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পে অধীনে থাকতে হলে নির্দিষ্ট পেশার সাথে যুক্ত থাকতে হত। কিন্তু পরে রাজ্য সরকারের নির্দেশে সাধারণ মানুষকেও এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। রাজ্যের সব মানুষ এখন বিনা খরচে সরকারি স্বাস্থ্য বিমার সুযোগ পান।
সুবিধা :
- চিকিৎসার জন্য প্রত্যেক পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা বিমাকৃত।
- এই প্রকল্পে নাম থাকলে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মিলবে বিনামূল্যে চিকিৎসা। শুধু দেখাতে হবে স্বাস্থ্য সাথীর স্মার্ট কার্ড।
কারা সুবিধা পাবেন?
আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে নতুন করে তৈরি হচ্ছে ঘূর্ণাবর্ত, পুজোয় ফের দুর্যোগ বাংলা জুড়ে!
সরকারি অন্য কোনো স্বাস্থ্য প্রকল্পে নাম নেই এরকম পরিবার এই প্রকল্পে অধীনে থাকতে পারবে। কার্ড দেওয়া হবে গৃহকর্তীর নামে। এবং সেই কার্ডের আওতায় থাকবেন পরিবারের বাকি সদস্যরা।
প্রকল্পের অনুদান কত?
পরিবার পিছু মিলবে ৫ লক্ষ টাকার বিনামূল্যে চিকিত্সার সুযোগ।
সুবিধা কোথায় পাওয়া যাবে?
রাজ্যের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বাইরের বহু বেসরকারি হাসপাতালেও বিনামূল্যে চিকিৎসা মিলবে। দিল্লির এইমস এবং চেন্নাইয়ের ভেলোরে এই কার্ডের সুবিধা নেওয়া যাবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে ২০২১ সালে বিপুল ভোটে জিতে তৃতীয়বার সরকার গড়ার নেপথ্যে মূল হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প।