রাজ্যপাল জাগদীপ ধনখড়ের অপসারণের দাবি জানিয়ে এবার রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন মমতা ব্যানার্জি।
মঙ্গলবার জোড়া চিঠিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, রাজ্যপাল রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনাকে অতিরঞ্জিত রূপ দেওয়ার চেষ্ঠা করছেন।
সেই সঙ্গে ওই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা যখন ঘটেছে তখন প্রশাসন রাজ্য সরকারের আওতায় ছিল না। পাশাপাশি চিঠিতে বলা হয়, রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকারের এখন প্রধান উদ্দেশ্য করোনা মোকাবিলা করা। চিঠিতে আরও অভিযোগ আনা হয় যে রাজ্যপাল তাঁর এক্তিয়ার বহির্ভুত কাজ করছেন ।
আরও পড়ুন: CBI-কেই এর উত্তর দিতে হবে; লালন শেখের মৃত্যু নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া মুখ্যমন্ত্রীর
মুখ্যমন্ত্রীর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, রাজ্যপাল একটি নির্বাচিত সরকারের কাজকর্মে প্রতিনিয়ত ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন, এমন একটা সময় যখন সরকারকে অতিমারির সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই চালাতে হচ্ছে।
তৃণমূল সূত্রে খবর, চিঠির পাশাপাশি রাজ্যপালের অপসারণ চেয়ে বিধানসভায় প্রস্তাব পাস করাতে পারে শাসকদল। রাজ্যপালকে বয়কটও করা হতে পারে ।
রাজ্যপাল হিসেবে ধনখড় শপথ নেওয়ার পরেই একাধিক ইস্যুতে রাজ্যের সঙ্গে রাজ ভবনের সংঘাত বাঁধে। বিধানসভা ভোটের মুখে রাজ্যপাল মমতার সরকারের বিরোধিতায় সরব হন। তৃণমূলের অভিযোগ রাজ্যপাল বিজেপি নেতাদের ভাষায় কথা বলছেন।
তবে রাজভবন নবান্নের সংঘাত চরমে পৌঁছায় মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিন। মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েই সেদিনও রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে রাজ্য সরকারকে খোঁচা দেন ধনখড়। মন্ত্রিসভার শপথের দিনও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। সূত্রের খবর, রাজ্যপালের এহেন আচরণ ভালোভাবে নেয়নি শাসকদল।
আরও পড়ুন: শনিবার থেকে পশ্চিমবঙ্গসহ উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রবল ঝড় এবং বৃষ্টির সতর্কতা
অন্যদিকে মন্ত্রিসভার অনুমোদন ছাড়াই বিজেপি নেতাদের সঙ্গে নিয়ে রাজ্যের হিংসাকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন রাজ্যপাল। যা সংবিধান বিরোধী কাজ বলে দাবি করে তৃণমূল নেতৃত্ব।
সেই সঙ্গে মন্ত্রিসভার শপথের আগের দিন রাজ্যের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রী সহ বিধায়কের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশের অনুমতি দেন রাজ্যপাল। যার জেরেও বেজায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী।
সব মিলিয়ে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে এদিন একগুচ্ছ অভিযোগ করে তাঁর অপসারণের দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।




