বুধবার সকালেই উপকূলে আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড় যশ। ঝড়ের প্রকোপে যাতে কাউকে পড়তে না হয় তাই দিকে দিকে প্রচার চালাচ্ছে কলকাতা পুলিশ।
সোমবার থেকেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় গাছ কাটার কাজ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে লালবাজারে শুরু হয়েছে বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন দল ‘ইউনিফায়েড কম্যান্ড এজেন্সি’ এর কাজ। ঘূর্ণিঝড়ের সময় যদি কেউ সমস্যায় পড়ে, তাই শহরবাসীর সুবিধার্থে চারটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে লালবাজার। হেল্পলাইন নম্বরগুলি হল- ৯৪৩২৬১০৪২৯, ৯৪৩২৬১০৪৩০, ৯৪৩২৬১০৪৩৬ ও ৯৪৩২৬১০৪৫০।
ঝড় আসার আগেই গাছের তলা ও বিলবোর্ডের পাশ থেকে গাড়ি সরানোর নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। এই বিষয়গুলি নজরদবারি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রত্যেকটি ট্রাফিক গার্ডকে। শুধু তাই নয়, ঝড়ের সময় সমস্ত ফ্লাইওভারে যান চলাচল বদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
আরও পড়ুন: দেশে বেড়ে চলেছে ওমিক্রন সংক্রমিতের সংখ্যা, বাংলার মুখ্যসচিবকে চিঠি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিবের
মঙ্গলবার থেকেই গঙ্গায় স্নান করতে বারণ করা হয়েছে। এমনকি গঙ্গার ঘাটে দাঁড়ানোও যাবে না। কোনও মাঝি বা মৎস্যজীবী যাতে নৌকা নিয়ে গঙ্গায় না নামান, সেই ব্যাপারেও সতর্ক করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় চলাকালীন যাতে গঙ্গায় কোনও রকম দুর্ঘটনা না ঘটে। তার জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে জলপুলিশ।
ঝড়ের দাপটে যদি কোন গাছ উপড়ে পড়লে সেক্ষেত্রে রাস্তায় পড়ে যাওয়া গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি বা তার সরানোর কাজ করবে সিইএসসি ও বিএসএনএলের কর্মীরা। এছাড়াও মোতায়েন করা হয়েছে বন দপ্তরের ১৬টি টিমকে। যারা কলকাতার ন’টি ডিভিশনে কাজ করবে।
বিপজ্জনক বাড়ির বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। ঝোড় হাওয়া বইতে শুরু করলে কেউ যাতে বিপজ্জনক বা ভঙ্গুর পাঁচিলের পাশে না দাঁড়ায়, সেই ব্যাপারও সতর্ক করা হচ্ছে কলকাতা পুলিশের তরফে।
আরও পড়ুন: দৃষ্টান্ত: করোনা সংক্রমিত তৃণমূল নেতাকে প্লাজমা দিতে হাসপাতালে ছুটলেন সিপিএম নেতা
রবিবার পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে এক বৈঠকে ‘ইউনিফায়েড কমান্ড এজেন্সি’ নামে এক বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন দল গঠন করা হয়। এই দলে পুলিশ অফিসাররা ছাড়াও কলকাতা পুরসভা, এনডিআরএফ, বিএসএনএল ও সিইএসসির আধিকারিকরা থাকবেন।
ইতিমধ্যেই কলকাতায় মোতায়েন করা হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ১০ টি, সিভিল ডিফেন্সের ১০ টি, বন দফতরের ১৬ টি এবং কলকাতা পুলিশের ২২ টি দল।