বিএসপি-সপার জোটের জেরে উত্তর প্রদেশে লোকসভা নির্বাচনে জোর ধাক্কা খেতে পারে বিজেপি। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল মূল্যায়ণ করে দেখা যাচ্ছে, এই জোটের ফলে আগামী লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে ৩৭ টি আসন বিজেপির হারানোর সম্ভাবনা প্রবল। ২০১৪ সালে উত্তর প্রদেশে ৮০ টি আসনের মধ্যে বিজেপি যেখানে পেয়েছিল ৭৩ টি আসন, তা অখিলেশ-মায়াবতীর জোটের ধাক্কায় কমে হতে পারে ৩৬। অন্যদিকে সপা-বিএসপি জোট পেতে পারে ৪২ টি আসন। কংগ্রেস পেতে পারে ২ টি আসন। এমনই সম্ভাবনার কথা উঠে আসছে নির্বাচনী পাটিগণিতে।
দীর্ঘ জল্পনার পরে গত ১২ ই জানুয়ারি বসপা-সপার জোট ঘোষণা হয়েছে। লখনউয়ে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে সপা নেতা অখিলেশ যাদব ও বিএসপি নেত্রী মায়াবতী তাঁদের জোট ঘোষণা করেন এবং জল্পনামাফিক সেই জোটে জায়গা হয়নি কংগ্রেসের। প্রশ্ন উঠছে, অখিলেশ ও মায়াবতীর এই জোট দেশের সবচেয়ে বড় রাজ্যে কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত লোকসভা নির্বাচনে ৮০ টি আসনের ৭৩ টিতে জয়লাভ করা বিজেপিকে আগামী লোকসভা নির্বাচনে যথেষ্ট বেগ দিতে পারে অখিলেশ-মায়াবতী জুটি।
নিউজ পোর্টাল ‘মানি কন্ট্রোল’ ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন ফলাফলের নিরিখে সপা এবং বিএসপির ভোটের শতকরা হিসেব ধরে যে বিশ্লেষণ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি ও তার জোট পেয়েছিল ৪৩.২ শতাংশ ভোট, আর অখিলেশ যাদবের সপা, মায়াবতীর বসপা ও অজিত সিংহের আরএলডি মিলে পেয়েছিল মোট ভোটের ৪২.৮৫ শতাংশ। কিন্তু বিরোধী ভোট ভাগাভাগির জেরে বিজেপি প্রায় ৯০ শতাংশ আসনে জয়লাভ করে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল মূল্যায়ণ করে দেখা যাচ্ছে, আগামী লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে ৩৭ টি লোকসভা আসনে বিজেপির হারের সম্ভাবনা বিপুল। তাছাড়া, গত বছরের উপনির্বাচনেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন অখিলেশ, মায়াবতী এবং অজিত সিংহের জোট। বিশেষত, যোগী আদিত্যনাথের গোরক্ষপুর, ফুলপুর এবং কাইরানা আসনে বিজেপির হার হয়েছে এই জোটের কাছে।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না করা মায়াবতী ও অখিলেশের বড় সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। যদিও, রবিবারই কংগ্রেস ঘোষণা করেছে উত্তরপ্রদেশের ৮০ টি আসনেই এবার লড়বে তারা। কিন্তু রাজ্যের দলিত ও মুসলিম ভোটে মায়াবতী-অখিলেশ জুটিই ভাগ করে নেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ব্রাহ্মণ ও উচ্চবর্ণের ভোটের একটা বড় অংশ বিজেপির থেকে ছিনিয়ে নিতে পারে কংগ্রেস। কারণ, উত্তর প্রদেশের উচ্চবর্ণীয়দের একটা বড় অংশ দেশের পুরনো দলের প্রতি বিশেষ আস্থাশীল। তাই একদিকে সপা-বিএসপি জোট, আর অন্যদিকে কংগ্রেস, উত্তর প্রদেশে এই লোকসভা নির্বাচনের যুদ্ধ সহজ হবে না বিজেপির।
মায়াবতী ও অখিলেশ জোটকে তাঁরা যে সমীহ করেই চলছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথাতেও তা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। ৯ জানুয়ারি আগ্রার সভা থেকে নাম না করে মায়াবতী-অখিলেশকে আক্রমণ করে মোদী বলেন, যে দুই বিরোধী দল নিজেদের দেখতে পারত না, বিজেপিকে হারাতে তারা এখন জোট গড়তে চলেছে। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহও দিল্লির রামলীলা ময়দান থেকে আক্রমণ শানিয়ে বলেছেন, বিজেপিকে হারাতে জোটবদ্ধ হয়েছে ‘বুয়া-ভাতিজা’। অর্থাৎ, একটা বিষয় পরিষ্কার, গত লোকসভা নির্বাচনে ৮০ র মধ্যে ৭১ টি আসন জয় করা বিজেপি নেতৃত্বও হেলার ছলে দেখছে না সপা-বসপা জোটকে। আর দেশের রাজনীতিতে উত্তর প্রদেশের ভূমিকা সব সময়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই জোটের ফলে এই রাজ্যে বিজেপি ৫০ শতাংশের কম আসন পেলে তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে দিল্লিতে সরকার গঠনের ক্ষেত্রেও।
আরও পড়ুন: দিল্লিতে অভিষেক ব্যানার্জি, যোগ দিলেন সাসপেন্ড সাংসদের ধর্ণায়