দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: গত বছর সল্টলেক যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে বেনজির বিশৃঙ্খলার ঘটনায় অবশেষে পুলিশের মুখোমুখি হলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। কলকাতা হাইকোর্টের রক্ষাকবচ মেলার পর বৃহস্পতিবার সকালে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেন তিনি, চলে প্রায় ৩ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা।
২২ হাজার টিকিট কালোবাজারি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে ‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুর’ (GOAT India Tour) উপলক্ষে এসেছিলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কিন্তু সেই মেগা ইভেন্ট চরম বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়। অভিযোগ, প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস তাঁর ঘনিষ্ঠদের নিয়ে অনুমতি ছাড়াই মাঠে প্রবেশ করে মেসিকে ঘিরে ধরেন। এর জেরে হাজার হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কাটা সাধারণ দর্শকরা তাঁদের প্রিয় তারকাকে দেখতে পাননি। ক্ষুব্ধ দর্শকরা স্টেডিয়ামের গ্যালারি ও শৌচাগারে ব্যাপক ভাঙচুর চালান।
এই ঘটনার মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, গত ১৭ মে অরূপ বিশ্বাস সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় নতুন করে এফআইআর দায়ের করেন তিনি। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, অরূপ বিশ্বাস জোর করে ২২ হাজার ‘কমপ্লিমেন্টারি’ টিকিট নিয়েছিলেন, যা পরে কালোবাজারি করা হয়। এ ছাড়াও, তোলাবাজি, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: এবার দিল্লিতেও হবে বাংলার বইমেলা; কলকাতা বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠান থেকে বললেন মুখ্যমন্ত্রী
কী বলছে মেসির নিজস্ব টিম? তদন্তে আরও একটি বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। খোদ মেসির টিমের এক আধিকারিক বিধাননগর পুলিশের কাছে ই-মেইল পাঠিয়ে এই ঘটনার জন্য সরাসরি অরূপ বিশ্বাসকে দায়ী করেছেন। ওই ই-মেইলে জানানো হয়েছে, মাঠে অরূপ বিশ্বাসের প্রবেশ পূর্বনির্ধারিত সূচির মধ্যে ছিল না। তিনি নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ফুটবল তারকার খুব কাছে চলে যান এবং বারবার তাঁকে স্পর্শ করে ছবি তুলতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় মেসির নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীরা মাত্র ২২ মিনিটের মাথায় তাঁকে মাঠ থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হন।
রক্ষাকবচ নিয়ে থানায় অরূপ, ফের ডাক ২২ জুন মেসিকাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিধাননগর পুলিশের তরফে অরূপ বিশ্বাসকে এর আগে তিনবার তলব করা হয়েছিল। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান। পরে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে শর্তসাপেক্ষ অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পান প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। এর ফলে পুলিশ তাঁকে এখনই গ্রেফতার করতে পারবে না।
অবশেষে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট নাগাদ কালো কাঁচ ঢাকা গাড়িতে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় পৌঁছন তিনি। দুপুর ১টা ১৫ মিনিট নাগাদ থানা থেকে বেরিয়ে যান তৃণমূলের এই হেভিওয়েট নেতা। পুলিশ সূত্রে খবর, এই তিন ঘণ্টায় তাঁকে একাধিক প্রশ্ন করা হয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব এখনও শেষ হয়নি। আগামী ২২ জুন প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি নিয়ে তাঁকে ফের থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
আরও পড়ুন: ১২ দিন পর ছাড়া পেলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী; বাড়িতে থাকবেন পর্যবেক্ষণে




