রশ্মি একসময় ছিলেন পুরুষ, কিন্তু এখন নারী। উত্তর প্রদেশের দেউরিয়ার বাসিন্দা রশ্মীর এই যাত্রা খুব একটা সহজ ছিল না। নানান বাধার সম্মুখীন হতে হয় তাঁকে। বছরের পর বছর অপেক্ষা করার পর ২০১৯ সালে পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তর হন এই ট্রান্সজেন্ডার মহিলা। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার স্মৃতি বড্ড অপ্রীতিকর। ভারতে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের অস্ত্রোপচারের পথে একাধিক বাধার সম্মুখীন হতে হয় বলেই জানান রশ্মী।
অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং ব্যয়বহুল এই অস্ত্রপচার করার মতন অর্থ ও মানসিকতা সবার থাকেনা। ২৯ বছরের রশ্মী জানিয়েছেন, তাঁর ক্ষেত্রে এই অস্ত্রপচারের জন্য অর্থের প্রয়োজন ছিল। মে মাসে তীব্র গরমের মধ্যে তিনি সিদ্ধান্ত নেন বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার। এরপর দরকার পড়ে অর্থের। উত্তর প্রদেশের দেওরিয়া-গোরখপুর রুটে প্রতিদিন অন্তত চারটি ট্রেনে নাচ এবং গান করে টাকা রোজগার ছিল তাঁর দৈনন্দিন কাজ।
পুরুষ থেকে নারী হওয়ার প্রক্রিয়ায় অস্ত্রোপচার এবং হরমোন প্রতিস্থাপনের জন্য ৩.৪ লক্ষ টাকা খরচ করতে হয়েছিল এককালীন। এই টাকার জন্য ধার পর্যন্ত করতে হয়েছিল তাঁকে। তিন বছর পরেও তিনি এখনও ঋণমুক্ত হতে পারেননি দুই বন্ধুর কাছে। এই প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনে ১৯৬৯ সালের স্টোনওয়াল বিক্ষোভের কথা। যেখানে পুলিশ সমকামীদের জন্য একটি বারে অভিযান চালানোর পর ছয় দিন ধরে বিক্ষোভ চলেছিল। ভারতেও ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের অন্য আইন অনুযায়ী ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য ও সুবিধার জন্য আরও উদ্যোগী হওয়ার দরকার।
আরও পড়ুন: ট্রেনের টিকিট কনফার্ম না হলে বিনামূল্যে বিমানের টিকিট ! এই অ্যাপে টিকিট কাটলেই থাকছে চমক
দেওরিয়ায় বাস করেন খুশভু নামের এক ট্রান্সজেন্ডারের কথায়, সরকারি হাসপাতালে এত সুযোগ-সুবিধা, কিন্তু আমরা কেন বাদ? সরকারের প্রতি একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি বলেছেন, আমাদের ভাল উপার্জনের সুযোগ দেওয়া হয় না। অন্যদিকে ফেব্রুয়ারী মাস থেকেট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের জন্য আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা বাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্র।
