দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে এক নজিরবিহীন জটিলতাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মেঘালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম গারো হিলস জেলার মহেন্দ্রগঞ্জ সীমান্তে এক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে কেন্দ্র করে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মধ্যে এই সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিএসএফ ওই আটক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চাইলেও বিজিবি তাকে গ্রহণ করতে সাফ অস্বীকার করেছে, যার ফলে ওই ব্যক্তি বর্তমানে দুই দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তের জিরো লাইনে আটকে রয়েছেন।
মহেন্দ্রগঞ্জ সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীকে ঘিরে সংঘাত সীমান্তের নদী তীরবর্তী চর সেক্টরের মহেন্দ্রগঞ্জে এক ব্যক্তিকে অবৈধভাবে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করার অপরাধে আটক করে বিএসএফ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তে বিএসএফ নিশ্চিত হয় যে ধৃত ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক। এমনকি ওই ব্যক্তি নিজেও বিএসএফের কাছে স্বীকার করেছে যে সে ওপার বাংলার বাসিন্দা। এরপরই সীমান্ত আইন মেনে তাকে পুশব্যাক করার প্রক্রিয়া শুরু করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। কিন্তু জিরো লাইনে নিয়ে যাওয়া মাত্রই ওপার থেকে তীব্র বাধা আসে।
ফেরত নিতে নারাজ বিজিবি, জিরো লাইনেই বন্দি বিএসএফ যখন ওই অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে, তখন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক অবস্থান নেয়। বিজিবির পাশাপাশি ওপার বাংলার স্থানীয় কিছু বাসিন্দাও সীমান্তের বেড়ার ওপাশে জড়ো হয়ে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করে এবং তাকে ফিরিয়ে নিতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। বিজিবির এই অনড় মনোভাবের কারণে ওই বাংলাদেশি নাগরিক বর্তমানে দুই দেশের কাঁটাতারের মাঝের নো-ম্যানস ল্যান্ড বা জিরো লাইনে আটকা পড়ে আছেন। ওপার থেকে বাধা আসায় বিএসএফ যেমন তাকে ওপাশে পাঠাতে পারছে না, তেমনই ভারতের মাটিতেও তাকে পুনরায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
সীমান্তে হাই অ্যালার্ট, দুই বাহিনীরই টহল জোরদার এই ঘটনার পর মেঘালয় সীমান্ত জুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যে বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি স্পষ্ট ধরা পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে ভারতের সীমান্তরক্ষী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো মহেন্দ্রগঞ্জ সেক্টর এবং সংলগ্ন এলাকায় কড়া নজরদারি শুরু করেছে। ভারত ও বাংলাদেশ, দুই দেশেরই সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডারে তাদের গতিবিধি ও টহল বাড়িয়েছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিএসএফ বা বিজিবি-র তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বা সরকারি বিবৃতি জারি করা হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী সরকার গঠিত হওয়ার পর অনুপ্রবেশ রুখতে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার কাজ চলার মাঝেই মেঘালয় সীমান্তের এই ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক ও সীমান্ত সম্পর্কে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করল।