দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: কমেডি শো-তে শবদেহ সংক্রান্ত আপত্তিকর মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক এ বার পৌঁছল পুলিশি অভিযোগ পর্যন্ত। মুম্বইয়ের KEM Hospital-এর এমবিবিএস পড়ুয়া সেজল পাওয়ার-সহ মোট তিনজনের বিরুদ্ধে আপত্তিকর কনটেন্ট সংক্রান্ত অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছে মহারাষ্ট্র সাইবার। পাশাপাশি ওই পড়ুয়ার মন্তব্যকে ‘অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে তদন্ত কমিটি গড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও।
কী নিয়ে বিতর্ক
ঘটনার সূত্রপাত কমেডিয়ান প্রণিত মোরের একটি স্ট্যান্ড-আপ শো ঘিরে, যা গুরুগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই শো-র দু’টি পৃথক মুহূর্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। একটিতে দর্শকাসন থেকে হিমাংশু জাংরা নামে এক ব্যক্তির আপত্তিকর মন্তব্য, অন্যটিতে অ্যানাটমি পড়ার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে সেজল পাওয়ারের শবদেহ সংক্রান্ত অশালীন মন্তব্য।
জানা গিয়েছে, ক্লিপটি মাস তিনেক আগের একটি শো-র হলেও সম্প্রতি তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এর পরই চিকিৎসক, পড়ুয়া থেকে সাধারণ নেটিজেন, নানা মহল থেকে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। বহু মানুষের বক্তব্য, চিকিৎসা শিক্ষার জন্য দান করা দেহের মর্যাদা রক্ষা করা আবশ্যক।
আরও পড়ুন: রাজনীতিকে দুষ্কৃতীমুক্ত রাখতে পদক্ষেপ নিক সংসদ, বলল সুপ্রিম কোর্ট
এফআইআর ও কমিশনের হস্তক্ষেপ
মহারাষ্ট্র সাইবার সূত্রে খবর, প্রণিত মোরে, হিমাংশু জাংরা ও সেজল পাওয়ার, এই তিনজনের বিরুদ্ধেই এফআইআর দায়ের হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং এখনও পর্যন্ত কোনও গ্রেফতারির খবর নেই।
যেহেতু অনুষ্ঠানটি হরিয়ানার গুরুগ্রামে হয়েছিল, তাই বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেছে জাতীয় মহিলা কমিশনও। কমিশন হরিয়ানার ডিজিপি-কে দ্রুত পদক্ষেপ এবং রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ডিজিটাল বিনোদন মঞ্চগুলিতে কড়া নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে।
হাসপাতাল ও চিকিৎসক সংগঠনের প্রতিক্রিয়া
KEM হাসপাতালের ডিন ডাঃ হরিশ পাঠক জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি দেখার পরই বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। মন্তব্যটিকে অগ্রহণযোগ্য বলে বর্ণনা করে তিনি দু’সদস্যের তদন্ত কমিটি গড়েছেন এবং রিপোর্ট পাওয়ার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, ওই পড়ুয়াকে এখনও সাসপেন্ড করা হয়নি, সাসপেনশন সংক্রান্ত খবর সঠিক নয়।
এই বিতর্কে দূরত্ব তৈরি করেছে চিকিৎসকদের সংগঠনও। KEM MARD জানিয়েছে, ওই পড়ুয়া তাদের সদস্য নন এবং তাঁর মন্তব্য চিকিৎসা পেশার মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল স্টুডেন্টস’ অ্যাসোসিয়েশন (AIMSA)-ও মন্তব্যকে অসংবেদনশীল ও অসম্মানজনক বলে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।
ক্ষমা ও সোশ্যাল মিডিয়া
বিতর্কের মুখে প্রথমে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিলেন ওই পড়ুয়া। নিজের ভুল স্বীকার করে তিনি জানিয়েছিলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে তিনি এমন মন্তব্য করেননি। পরে অবশ্য ক্ষমাপ্রার্থনার ভিডিওটি তিনি মুছে দেন এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় বা ‘প্রাইভেট’ করে দেন।
এই গোটা ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া বিভক্ত। একাংশ যেখানে চিকিৎসা-নৈতিকতার প্রশ্নে কড়া সমালোচনা ও পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন, সেখানে অন্য একাংশের মতে, একটি কমেডি শো-র পুরনো মন্তব্যকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আপাতত হাসপাতালের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ও সাইবার তদন্তের দিকেই নজর সব পক্ষের।