দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: রাজ্যসভা মনোনয়ন বাতিল নিয়ে দায়ের মামলায় বড় ধাক্কা খেল কংগ্রেস। মধ্যপ্রদেশ থেকে দলের প্রার্থী Meenakshi Natarajan-এর মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে দায়ের আবেদন শুক্রবার খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, চাইলে তিনি নির্বাচনী পিটিশনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।
কেন বাতিল হয়েছিল মনোনয়ন
মধ্যপ্রদেশের তিনটি রাজ্যসভা আসনের একটিতে কংগ্রেসের প্রার্থী ছিলেন মীনাক্ষী নটরাজন। গত ৯ জুন রিটার্নিং অফিসার অরবিন্দ শর্মা তাঁর মনোনয়ন বাতিল করেন। অভিযোগ, ফর্ম ২৬-এর হলফনামায় তিনি নিজের বিরুদ্ধে থাকা একটি ফৌজদারি মামলার তথ্য উল্লেখ করেননি।
জানা গিয়েছে, বিজেপি প্রার্থী মহেশ কেওট রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন যে, তেলঙ্গানায় নটরাজনের বিরুদ্ধে নথিভুক্ত একটি মামলার কথা তিনি হলফনামায় গোপন করেছেন। সেই ভিত্তিতেই হলফনামা ‘অসম্পূর্ণ’ বলে মনোনয়ন খারিজ করা হয়।
আরও পড়ুন: ধনখড়কে দিল্লিতে তলব অমিত শাহের, শুক্রবারের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-রাজ্যপাল বৈঠক নিয়ে জল্পনা
সুপ্রিম কোর্ট কী বলল
বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি অতুল এস চান্দুরকরের বেঞ্চ এই আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের বক্তব্য, সংবিধানের ৩২৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে এই পর্যায়ে আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই, তাই রিট আবেদনটি গ্রহণযোগ্য নয়।
মনোনয়ন বাতিলের ‘স্পষ্ট ও প্রকট’ ত্রুটি সংশোধনে ৩২ অনুচ্ছেদ প্রয়োগের যুক্তিও খারিজ করে দেয় বেঞ্চ। তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, এই পর্যবেক্ষণ মামলার মূল বিষয়বস্তু নিয়ে নয় এবং তা ভবিষ্যতে দাখিল হতে পারা কোনও নির্বাচনী পিটিশনে প্রভাব ফেলবে না। নটরাজনের আইনজীবী, প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভির যুক্তি ছিল, যে মামলার কথা বলা হচ্ছে তাতে এখনও চার্জ গঠন হয়নি, যা জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী মনোনয়ন বাতিলের জন্য আবশ্যক।
কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া
রায়ের পর সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি নটরাজন। তবে তিনি দাবি করেন, তাঁদের লড়াই ছিল মূলত নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ঘিরে এবং রিটার্নিং অফিসারের নিরপেক্ষতা নিয়ে। কংগ্রেসের অভিযোগ, এটি ‘আসন চুরি’র চেষ্টা এবং এতে বিজেপি ও কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।
আরও পড়ুন: পুরুলিয়ায় ফের বিজেপি কর্মীর রহস্য মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর, তদন্তে সিআইডি
এর আগে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করে মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন। সেই দাবি না মেটায় দল সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। এ দিন দিল্লিতে সত্যাগ্রহ কর্মসূচিও পালন করেন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। আপাতত নির্বাচনী পিটিশনের পথই খোলা রইল দলের সামনে।