দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: ‘ডন থ্রি’ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে রণবীর সিং ও নির্মাতা ফারহান আখতারের বিবাদ এখন বলিউডের অন্যতম চর্চিত প্রসঙ্গ। এই টানাপড়েনের মধ্যেই এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (FWICE)-এর চিফ অ্যাডভাইজার অশোক পণ্ডিত। তাঁর দাবি, একাধিকবার ডেকে পাঠানো হলেও রণবীর বিষয়টি মেটাতে ফেডারেশনের সামনে হাজির হননি।
কী বলেছেন অশোক পণ্ডিত
অশোক পণ্ডিতের বক্তব্য, ফারহান আখতার ও রিতেশ সিধওয়ানির এক্সেল এন্টারটেনমেন্ট অভিযোগ জানানোর পর ফেডারেশন রণবীরের বক্তব্য জানতে চেয়েছিল। কিন্তু একাধিক আনুষ্ঠানিক নোটিসের জবাব দেননি অভিনেতা। শেষমেশ তিনি জানান, বিষয়টি FWICE-এর এক্তিয়ারভুক্ত নয়।
পণ্ডিতের কথায়, তাঁরা চেয়েছিলেন রণবীর এসে আলোচনায় বসুন, প্রয়োজনে ফেডারেশন নিজেদের অবস্থানও পুনর্বিবেচনা করতে পারত। তিনি আরও দাবি করেন, ‘ধুরন্ধর’ মুক্তির পর রণবীর, ফারহান ও রিতেশের মধ্যে হওয়া কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটই তাঁদের কড়া সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। যদিও এই দাবিগুলি পণ্ডিতের নিজস্ব বক্তব্য, রণবীরের তরফে এর প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
কেন শুরু হয়েছিল বিবাদ
২০২৩ সালে এক্সেল এন্টারটেনমেন্ট রণবীরকে নিয়ে ‘ডন থ্রি’ ঘোষণা করেছিল। অমিতাভ বচ্চন ও শাহরুখ খানের পর এই ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন মুখ হিসেবে রণবীরের নাম ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত হয়েছিলেন অনুরাগীরা। কিন্তু পরে ছবি থেকে সরে দাঁড়ান অভিনেতা।
রণবীরের শিবিরের বক্তব্য, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ছবির চিত্রনাট্য পাকা হয়নি, একাধিক গল্পের সুতো অসম্পূর্ণ ছিল এবং প্রতিশ্রুত মাপ ও গভীরতা ছবিতে ছিল না। অন্যদিকে এক্সেলের পাল্টা দাবি, ধাপে ধাপে চিত্রনাট্য তৈরি করে রণবীরকে দেখানো হয়েছিল এবং তিনি প্রতিটি খসড়ায় সম্মতিও দিয়েছিলেন। প্রি-প্রোডাকশনে বিপুল খরচের পর হঠাৎ অভিনেতার সরে যাওয়ায় তাঁদের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে নির্মাতাদের তরফে দাবি করা হয়েছে।
FWICE-এর নন-কোঅপারেশন নোটিস
প্রথমে বিষয়টি পৌঁছয় চলচ্চিত্র পরিচালকদের সংগঠন IFTDA-র কাছে, পরে তা যায় FWICE-এ। রণবীরের তরফে পরপর নোটিসের জবাব না আসায় গত ২৫ মে নন-কোঅপারেশন নির্দেশিকা জারি করে ফেডারেশন।
তবে অশোক পণ্ডিত স্পষ্ট করেছেন, এটি কোনও আইনি নিষেধাজ্ঞা নয়। ট্রেড বডি হিসেবে ফেডারেশন তার ৩০টি শাখা-সংগঠনের সদস্যদের অনুরোধ করেছে, বিবাদ না মেটা পর্যন্ত যেন রণবীরের সঙ্গে যুক্ত কোনও প্রযোজনায় তাঁরা কাজ না করেন। বিষয়টি প্রোডিউসার্স গিল্ড অফ ইন্ডিয়া পর্যন্তও গড়িয়েছে।
এই বিতর্কে আমির খানের মধ্যস্থতার কথাও শোনা গিয়েছিল। যদিও আমির নিজে এই বিবাদে কোনওরকম যুক্ত থাকার কথা স্পষ্ট অস্বীকার করেছেন। আপাতত দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়, গোটা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছে গোটা ইন্ডাস্ট্রি।