দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: মাত্র চার দিনে ভারতীয় নাবিকবাহী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলা, তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু এবং প্রতিটি জাহাজে উদ্ধার অভিযান। বৃহস্পতিবার এই তথ্য প্রথমবার প্রকাশ্যে স্বীকার করে ভারত সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কড়া বার্তা পাঠাল, এই হামলা বন্ধ হওয়া উচিত।
তিনটি জাহাজ, চার দিন
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, Settebello, Marivex এবং Jalveer, তিনটি জাহাজেই হামলা হয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর তরফে।
প্রথম জাহাজ Marivex। পালাউ-পতাকাবাহী এই তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। ৮ জুন মার্কিন বাহিনী জাহাজটিকে অকেজো করে দেয়। তবে সব ক্রু নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন।
আরও পড়ুন: বিলগ্নিকরণের পথে কলকাতা মেট্রো
দ্বিতীয় জাহাজ Settebello। একই পালাউ-পতাকার আরেকটি ট্যাঙ্কার, ২৪ জন ভারতীয় ক্রু সমেত। ১০ জুন মার্কিন হামলায় জাহাজের ইঞ্জিন রুমে আগুন লাগে। উদ্ধার হওয়া ২১ ভারতীয় ছাড়াও তিনজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। বন্দর মন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিয়েছেন।
তৃতীয় জাহাজ Jalveer। গিনি-বিসাউ-পতাকাবাহী এই ট্যাঙ্কারে ছিলেন ২০ জন ভারতীয়। বৃহস্পতিবার হামলার খবর আসে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, একটি যুদ্ধবিমান থেকে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে জাহাজটির ইঞ্জিন রুম নষ্ট করা হয়েছে। ক্রুদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দর মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব মুকেশ মঙ্গল।
ভারতের কড়া অবস্থান
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই তিনটি জাহাজ ভারতীয় মালিকানার নয়। তবে তাতে ভারতীয় নাগরিকদের প্রাণ বিপন্ন হয়েছে, এটাই ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। জয়সওয়ালের স্পষ্ট বার্তা, ‘যে হামলাগুলো হচ্ছে সেগুলো বন্ধ হতে হবে।’
ভারত জানিয়েছে, এই মুহূর্তে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগর অঞ্চলে ১৩টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে ৫৬২ জন-সহ মোট ১৮ হাজারেরও বেশি ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
ফেব্রুয়ারির শেষে মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের সঙ্গে সংযুক্ত বন্দরগুলিতে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। সেই অবরোধ এড়াতে গিয়ে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার মুখে পড়েছে।
এই ঘটনাপ্রবাহ ভারত-মার্কিন সম্পর্কে নতুন চাপ তৈরি করছে। CNN জানাচ্ছে, আগামী সপ্তাহে ফ্রান্সে G7 শীর্ষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে এই সংকট ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও আলোচনার কেন্দ্রে।