দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: যাঁরা ইতিমধ্যেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন, তাঁদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার স্কিমের জন্য নতুন করে আবেদন জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। রাজ্য সরকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরনো সুবিধাভোগীদের নতুন প্রকল্পে মাইগ্রেট করছে। পুনর্যাচাইয়ের পর যোগ্য প্রমাণিত হলেই তাঁরা সরাসরি মাসে ৩,০০০ টাকা করে পাবেন। গত ৩ জুন ২০২৬ তারিখ থেকে ২৮ লক্ষেরও বেশি সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের প্রথম কিস্তি ঢুকেছে।
তবে এই মাইগ্রেশন প্রক্রিয়াটি চোখ বুজে হচ্ছে না। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পুরনো তালিকায় থাকা প্রতিটি নাম আধার, ভোটার লিস্ট এবং ব্যাঙ্কের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাইয়ে বাদ পড়া নামগুলি তালিকা থেকে মুছে ফেলা হচ্ছে। সেই কারণেই দীর্ঘদিনের অনেক সুবিধাভোগী এবার অ্যাকাউন্টে টাকা পাননি।
কী পরিবর্তন হয়েছে এবং টাকার পরিমাণ কতটা বেড়েছে পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে ২০২১ সালের অগাস্ট মাসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু হয়। সেই সময় সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ৫০০ টাকা এবং এসসি ও এসটি মহিলারা ১,০০০ টাকা পেতেন। পরে তা বাড়িয়ে ১,৫০০ থেকে ১,৭০০ টাকার মতো করা হয়। নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়, যেখানে জাতিগত ভেদাভেদ তুলে দিয়ে সমস্ত যোগ্য মহিলাকে মাসে সমপরিমাণ ৩,০০০ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে গেল না কেন্দ্রীয় ফরেন্সিক দল
টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি একই থাকছে। সরাসরি ডিবিটি-র (DBT) মাধ্যমে আবেদনকারিণীর নিজস্ব আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে। তবে যাচাই পর্ব কঠোর করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পুরনো তালিকা খতিয়ে দেখে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো বা অযোগ্য নাম চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই নতুন স্কিমে আধার ভেরিফিকেশন, ভোটার তালিকা মেলানো এবং ফ্যামিলি লেভেল ডেটা কালেকশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাইগ্রেট হবেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের যে সমস্ত সুবিধাভোগীর তথ্য পুনর্যাচাইয়ের পর সঠিক বলে প্রমাণিত হবে, তাঁরা কোনওরকম বাড়তি ফর্ম পূরণ ছাড়াই নতুন প্রকল্পের আওতায় চলে আসবেন। তাঁদের নতুন পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন বা ক্যাম্পে যাওয়ার দরকার নেই। একই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি বর্ধিত টাকা পৌঁছবে।
প্রতি সাত দিন অন্তর সুবিধাভোগীদের তালিকা আপডেট হচ্ছে। তাই প্রথম দফায় যাঁদের টাকা ঢোকেনি, তাঁদের এখনই হতাশ হওয়ার কারণ নেই। পরবর্তী ভেরিফিকেশন চক্রে তাঁদের নামও ক্লিয়ার হতে পারে।
আরও পড়ুন: বছরের শেষেই রুবি-নিউ গড়িয়া মেট্রোর চাকা গড়াতে পারে; উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী!
কাদের পদক্ষেপ নিতে হবে মূলত তিনটি শ্রেণির মানুষের এক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, যাঁদের নাম পুনর্যাচাইয়ে বাদ পড়েছে। নথির অমিল বা অযোগ্যতার কারণে নাম বাদ গেলে তাঁরা অফিসিয়াল পোর্টালে স্ট্যাটাস চেক করতে পারেন। যোগ্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে সঠিক তথ্য দিয়ে ফের আবেদন করতে পারবেন।
দ্বিতীয়ত, যাঁরা আগে কখনও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন না। তাঁদের socialregistry.wb.gov.in পোর্টালে গিয়ে অনলাইনে অথবা ব্লক অফিস ও দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে গিয়ে অফলাইনে আবেদন করতে হবে।
তৃতীয়ত, যাঁদের ব্যাঙ্কের বিবরণে সমস্যা রয়েছে। আবেদন করার পর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিবর্তন হলে বা আধারের সঙ্গে সংযুক্ত না থাকলে টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে না। তাই দ্রুত ব্যাঙ্কের তথ্য আপডেট করা প্রয়োজন।
কীভাবে মাইগ্রেশন স্ট্যাটাস চেক করবেন অফিসিয়াল পোর্টাল খুলে Track Applicant Status অথবা সিটিজেন লগইন অপশনে যেতে হবে। রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে আসা ওটিপি ভেরিফাই করলে ড্যাশবোর্ডে দেখা যাবে আবেদনটি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য অনুমোদিত হয়েছে কি না এবং ৩,০০০ টাকার পেমেন্ট প্রসেস হয়েছে কি না। অ্যাপ্লিকেশন আইডি না থাকলেও আধার নম্বর বা মোবাইল নম্বর দিয়ে এই স্ট্যাটাস দেখা যাবে।
সরকারি আধিকারিকদের অনুমান, এই প্রকল্পে প্রায় ২ কোটি মহিলা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। তাই পুরনোদের মাইগ্রেশন এবং নতুনদের আবেদন প্রক্রিয়া আগামী কয়েক মাস ধরেই চলবে। যদি টাকা না ঢোকে, তাহলে পোর্টালে স্ট্যাটাস চেক করুন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে নতুন স্কিমে ট্রান্সফার করে দেওয়ার নাম করে কেউ টাকা চাইলে সতর্ক থাকুন, কারণ এই সম্পূর্ণ মাইগ্রেশন প্রক্রিয়াটি বিনামূল্যের এবং স্বয়ংক্রিয়।