নিজস্ব সংবাদদাতা: ধর্ষণের মতো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জঘন্য অপরাধকে কেন্দ্র করে কৌতুক পরিবেশন করে নেটপাড়ায় তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়লেন স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান মধুর বির্লি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরেই নেটিজেনদের একাংশ তাঁর এই মানসিকতাকে অত্যন্ত কুরুচিকর এবং সস্তা বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন। অনেকেই এই কৌতুকশিল্পীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, মধুর বির্লি তাঁর একটি শো-এর সময় ধর্ষণের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কৌতুক করছেন। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) এবং ইনস্টাগ্রামের মতো বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নেটিজেনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বহু মানুষের বক্তব্য, কমেডি বা কৌতুকের একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকা উচিত। বিনোদনের নামে বা সস্তা প্রচারের আলো পেতে ধর্ষণের মতো অপরাধকে লঘু করে দেখানোর এই প্রবণতা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আরও পড়ুন: ‘আওয়ার গ্লাস’ ফিগারে ঝড় তুলছেন মিমি, ফাঁস হল তাঁর ফিগারের সিক্রেট
আইনি পদক্ষেপের দাবি
বিতর্ক বাড়তেই বহু সমাজকর্মী এবং সাধারণ নাগরিক মধুর বির্লির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন। সাইবার ক্রাইম বিভাগ এবং পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বহু নেটিজেন এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন। তাঁদের দাবি, এই ধরনের কুরুচিকর কৌতুক সমাজে অত্যন্ত ভুল বার্তা দেয় এবং অপরাধমূলক মানসিকতাকে পরোক্ষভাবে প্রশ্রয় দেয়। তাই অবিলম্বে ওই কৌতুকশিল্পীকে গ্রেফতার করা বা তাঁর শো নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে।
কৌতুক জগতের একাংশের নিন্দা
এই ঘটনা কেবল সাধারণ মানুষের মধ্যেই নয়, বিনোদন ও কৌতুক জগতের একাংশেও নিন্দিত হয়েছে। সমালোচকদের মতে, স্ট্যান্ড-আপ কমেডির নামে ইদানীংকালে বহু শিল্পীই মাত্রাতিরিক্তভাবে সংবেদনশীল বিষয়গুলিকে ব্যবহার করছেন, যা সুস্থ সংস্কৃতির পরিপন্থী। মধুর বির্লির এই কৌতুক নিয়ে সমাজমাধ্যমে সমালোচনা ক্রমশ বাড়তে থাকায় বিষয়টি নিয়ে আইনি জটিলতার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। তবে এই বিতর্ক নিয়ে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কৌতুকশিল্পীর তরফ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।