নিজের চোখে দেশকে স্বাধীন হতে দেখেছেন, চরকা কেটে জীবন কাটছে ৯৬ বছরের এই বৃদ্ধার, দাবি সরকারি সাহায্যের

বয়স ৯৬। সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না। লাঠির ওপর ভর দিয়ে কোনওরকমে চলাফেরা করেন। নিজের চোখে দেখেছেন দেশের স্বাধীনতার স্বাদ। এখনও চরকা কেটে জীবন কাটে মানদা দেবীর। চরকা কেটেই জীবন ধারণ করেন তিনি। নদিয়ার ফুলিয়ার বাসিন্দা মানদা দেবী আজও চরকা কেটেই পেটের ভাত জোগাড় করতে হয়।

৭১ এর দেশ ভাগের আগে ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা ছিলেন মানদা বসাক। মাত্র ১২ বছর বয়সে বিয়ে হয়। এর ঠিক কয়েক বছর পরে নদিয়ার ফুলিয়ার ঠাঁই হয় তাঁদের। ১৯৫০ সালের প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসের স্মৃতি আজও তাঁর কাছে তাজা। চরকায় সুতো কেটে ৩ ছেলে ও ১ মেয়েকে বড় করে তোলা। ৩ বছরের ছোট ছেলে রেখে মারা যান মানদা দেবীর স্বামী। পেশায় তিনি ছিলেন তাঁত শিল্পী। কিন্তু ছেলে মেয়েদের নিয়ে সংসার ভেসে যেতে দেননি তিনি। চরকা কেটেই ছেলে মেয়েদের বড় করে তুলেছেন। এখন তাঁদেরও বয়স হয়েছে।

মানদা দেবীর ছেলেদের আক্ষেপ, সরকারী সাহায্য তো দূরের কথা, সরকারী প্রকল্পের একটা বাড়িও পাননি তাঁরা। ঘরে ইট বালিও পড়েনি। ৯৬ বছরের বৃদ্ধা মাকে নিয়ে থাকেন টিনের বাড়িতেই।

এই বিষয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য বলেন, উনি সরকারি সাহায্য পাওয়ার উপযুক্ত। কিন্তু কী কারণে পাচ্ছেন না তা খতিয়ে দেখা হবে।

Comments are closed.